ইউ এস বেঙ্গল বাংলাদেশ রিপোর্ট: ৫ আগস্টের পর থেকে দিল্লির বুকে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা এখন ভারতের জন্য কি গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন? শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে নরেন্দ্র মোদি কি তবে বড় কোনো কূটনৈতিক ফাঁদে পা দিলেন? বিশ্বজুড়ে এখন জোর গুঞ্জন—হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে একাধিক শক্তিশালী রাষ্ট্র। “বন্ধুত্ব নাকি কূটনীতি? কাকে বেছে নেবেন নরেন্দ্র মোদি?
“ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রাথমিক গন্তব্য ছিল ভারত। কথা ছিল, এটি হবে তার জন্য ‘শর্ট ট্রানজিট’ বা সাময়িক বিরতি। তিনি চলে যাবেন লন্ডন কিংবা অন্য কোনো দেশে। কিন্তু এখানেই ঘটে বিপত্তি। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো হাসিনাকে আশ্রয় দিতে সাফ না করে দেয়। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে ভারতেই রেখে দিতে হয় মোদি সরকারকে।
কিন্তু এই আশ্রয় এখন মোদি সরকারের জন্য ‘শাঁখের করাত’-এ পরিণত হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু শেখ হাসিনা, অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী। হাসিনাকে বেশিদিন রাখলে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের অবনতি, আর ফেরত দিলে ‘বন্ধুত্বে’ ফাটল—এই দ্বিমুখী সংকটে এখন দিশেহারা দিল্লি।”
“তবে সংকট শুধু ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে ভারতের ওপর প্রবল আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, স্বৈরাচারী শাসকের বিচার নিশ্চিত করতে তাকে দেশে ফিরতেই হবে।
আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শেখ হাসিনার বাতিল করা কূটনৈতিক পাসপোর্টের কারণে তিনি এখন ভারতে কার্যত অবৈধভাবেই অবস্থান করছেন বলে মনে করছেন অনেকে। শোনা যাচ্ছে, পশ্চিমের একাধিক দেশ ভারতকে পরোক্ষভাবে চাপ দিচ্ছে যাতে হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। ভারত যদি তাকে সুরক্ষা দেয়, তবে আন্তর্জাতিক মহলে মোদি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন সতর্কবার্তাও নাকি দেওয়া হয়েছে।”
“এখন প্রশ্ন হলো, নরেন্দ্র মোদি আসলে কী করবেন? ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, হাসিনাকে জোর করে ফেরত পাঠানো ভারতের জন্য কূটনৈতিকভাবে সম্মানহানিকর হতে পারে। আবার তাকে আগলে রাখলে প্রতিবেশী বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হবে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদি আন্তর্জাতিক আদালত থেকে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, তবে জাতিসংঘের সদস্য দেশ হিসেবে ভারত তাকে আটকে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে।”
“রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। শেখ হাসিনা কি ভারতেই থেকে যাবেন, নাকি মোদি সরকার আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তাকে ফেরত পাঠাবে? পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে নরেন্দ্র মোদির সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রিন্ট করুন



















Discussion about this post