ডেস্ক রিপোর্ট: এক দশকে ষষ্ঠ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী! হ্যাঁ, ইতিহাস যেন আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করল। শত চেষ্টা আর লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতির পর অবশেষে প্রবল চাপের মুখে লেবার পার্টির নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন কিয়ার স্টারমার। মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের বিশাল জয়ই যেন স্টারমারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিল। জনপ্রিয়তার দিক থেকে স্টারমার কখনোই খুব সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন না। ২০২৪ সালে যখন তিনি ক্ষমতায় আসেন, ইপসসের জরিপে তাঁর রেটিং ছিল মাইনাস ২১—ইতিহাসে ক্ষমতা গ্রহণ করা যেকোনো প্রধানমন্ত্রীর জন্য যা সর্বনিম্ন! অথচ, এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সমীকরণে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তিনি সংসদে বসেছিলেন। কিন্তু কেন এই ভরাডুবি?
অনেকেই ভেবেছিলেন ২০২৪ সালের লেবারদের সেই ‘ভূমিধস’ জয় হয়তো স্থায়ী হবে। কিন্তু সত্যটা হলো, মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়ে লেবার পার্টি জিতেছিল ৬৪ শতাংশ আসন। এটা জনগণের লেবার পার্টির প্রতি ভালোবাসা ছিল না, ছিল বিদায়ী কনজারভেটিভ সরকারের প্রতি চরম ক্ষোভ। ঠিক যেভাবে ২০১৯ সালে জেরেমি করবিন ব্রেক্সিট ইস্যুতে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন, স্টারমারের ভাগ্যও তেমনি নির্ধারিত হলো। একদিকে ‘রিফর্ম ইউকে’ লেবারের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংকে ধস নামালো, অন্যদিকে গ্রিন পার্টি আর গাজাপন্থী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শহরের প্রগতিশীল ভোটারদের কেড়ে নিল।
২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের আজ ঠিক ১০ বছর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিটিশ রাজনীতি আসলে বালুর তৈরি এক দুর্গ। বাইরে থেকে জোটবদ্ধ মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে ভোটাররা পরিচয় ও ব্রেক্সিট ইস্যুতে গভীরভাবে বিভক্ত। স্টারমার সেই বালুর দুর্গের ওপর দাঁড়িয়েই ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। জোয়ারের প্রথম আঘাতেই যা ধসে গেল।জনসন কিংবা ট্রাসের মতো গণপদত্যাগের অপমান এড়াতে স্টারমার হয়তো সুকৌশলে বিদায়ের পরিকল্পনা করেছেন। সুনামের সঙ্গে ক্ষমতার হস্তান্তর নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। কিন্তু ডাউনিং স্ট্রিটের দরজায় দাঁড়িয়ে দেওয়া তাঁর আবেগঘন বক্তব্য একজন সফল রাষ্ট্রনায়কের নয়, বরং একজন ব্যর্থ নেতারই প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলে।ব্রিটেনের এই রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে পরবর্তী অধ্যায়ে কে আসছেন? উত্তর দেবে সময়।
প্রিন্ট করুন



















Discussion about this post