ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সামরিক অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের বন্দর থেকে ছেড়ে আসা অন্তত দুটি জাহাজ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
মেরিটাইম ট্র্যাকিং ফার্ম ‘কেপলার’ জানায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) মার্কিন অবরোধ কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময়ের পরেও জাহাজগুলো এই এলাকা পার হতে সক্ষম হয়।
লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ক্রিশ্চিয়ানা’ নামক একটি জাহাজ ইরানের বন্দর ইমাম খোমেনি থেকে ভুট্টা খালাস করে সোমবার গ্রিনিচ মান সময় ১৬:০০ টায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে, যা অবরোধ শুরুর ঠিক দুই ঘণ্টা পরের ঘটনা।
একই সময়ে কোমোরোসের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘এলপিস’ প্রায় ৩১ হাজার টন মিথানল নিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হয়। জাহাজটি গত ৩১ মার্চ ইরানের বুশেহর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এছাড়া ‘রিচ স্টারি’ নামে একটি চীনা ট্যাঙ্কারও লারক দ্বীপের দক্ষিণ দিক দিয়ে ওমানের সোহার বন্দরের উদ্দেশ্যে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আগেই ঘোষণা দিয়েছিল যে এই অবরোধের আওতায় ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া যে কোনো দেশের জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (১২ এপ্রিল) এই অবরোধের নির্দেশ দেন। সপ্তাহান্তে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, অবরোধ অমান্যকারী যে কোনো ইরানি নৌযান ধ্বংস করা হবে।
যদিও দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, তবুও ট্রাম্পের এই কড়া নির্দেশে সোমবার থেকে অবরোধ কার্যকর হয়। পাকিস্তান এবং কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও উত্তজনা এখন তুঙ্গে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই ধরনের অবরোধ কার্যকর করতে মার্কিন নৌবাহিনীকে প্রচুর সম্পদ ও জনবল নিয়োগ করতে হবে, যা আন্তর্জাতিক আইনের জটিলতাও তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, সাপ্লাই চেইন বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এই বিধিনিষেধের ফলে বিশ্ববাজারে তেল, সার এবং খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
খবর : এনডিটিভি।
প্রিন্ট করুন




















Discussion about this post