ডেস্ক রিপোর্ট: মায়ের মৃত্যুর পর প্রায় তিন বছর ধরে তার মৃতদেহ চেস্ট ফ্রিজে লুকিয়ে রেখে এক লাখ ডলারের বেশি সরকারি ভাতা ও পেনশন আত্মসাৎ করার অভিযোগে এক ব্রিটিশ নাগরিককে আড়াই বছরেরও বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের একটি আদালত।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন ৬০ বছর বয়সি ক্রিস্টোফার ফিলিপস।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিচারক ট্রেসি লয়েড-ক্লার্ক এই মামলার রায় ঘোষণা করে ফিলিপসকে দুই বছর চার মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
আদালতের নথি ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের মার্চে ওয়েলসের সাউথ পোর্থকল এলাকার নিজ বাড়িতে ক্রিস্টোফারের ৮৯ বছর বয়সি মা সিলভিয়া ফিলিপস মৃত্যুবরণ করেন। তবে মায়ের মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়ায় দাফন না করে তার দেহটি একটি চেস্ট ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন ছেলে ক্রিস্টোফার।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর সিলভিয়া ফিলিপসকে কোনো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী না দেখায় সন্দেহ দানা বাঁধে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালায়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ক্রিস্টোফার প্রথমে দাবি করেছিলেন যে তার মা লন্ডনে আত্মীয়দের কাছে রয়েছেন। কিন্তু বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ফ্রিজের ভেতর থেকে সিলভিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
তদন্তকারীরা জানান, ফ্রিজের ভেতরে বৃদ্ধার মৃতদেহের পাশে ফুল এবং ছেলে ও পোষা কুকুরের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি জন্মদিনের কার্ড রাখা ছিল।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টোফার এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি ‘মাকে ছেড়ে দিতে পারছিলেন না।’ এমনকি মায়ের মৃতদেহের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি দীর্ঘ দিন ওই একই ঘরে ঘুমাতেন বলে তার আইনজীবী জানান।
মা জীবিত আছেন দেখিয়ে দীর্ঘ প্রায় তিন বছরে ক্রিস্টোফার সরকারি কল্যাণ তহবিল ও পেনশন থেকে অবৈধভাবে প্রায় ৭৮,০০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বা আনুমানিক ১০৮,০০০ মার্কিন ডলার) তুলে নেন। আদালত তার বিরুদ্ধে লাশ দাফন না করে গোপন রাখা এবং অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ গঠন করে।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক ট্রেসি লয়েড-ক্লার্ক বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং কষ্টদায়ক ঘটনা। অর্থ উপার্জনের লোভে একজন মা মৃত্যুর পর তিন বছর ধরে ফ্রিজে বন্দি থেকে অসম্মানিত হয়েছেন।’
সাউথ ওয়েলস পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান পরিদর্শক ক্লেয়ার ল্যামারটন এক বিবৃতিতে জানান, ‘এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা, যেখানে ফিলিপস নিজ মায়ের মৃত্যু লুকিয়ে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন।’
উল্লেখ্য, পুলিশ জানিয়েছে যে সিলভিয়া ফিলিপসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
খবর : দ্য ডন
প্রিন্ট করুন




















Discussion about this post