ইউ এস বেঙ্গল বাংলাদেশ রিপোর্ট: “একবার এক নেতার কথায় পুরো রাজপথ উত্তাল হলো, অন্য নেতার এক কথায় লাখ লাখ মানুষ সেটাকে বাইবেল বা বেদবাক্যের মতো সত্য মেনে নিল! কিন্তু দিনশেষে দেখা গেল—সম্পূর্ণ তথ্যটাই ছিল সাজানো, ভুয়া বা রাজনৈতিক চাল।” বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে কতগুলো রাজনৈতিক বয়ান ছড়ায়, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কখনো এই দল বলছে দেশ বিক্রি হয়ে গেল, কখনো ওই দল বলছে দেশের সব উন্নতি একসাথে শেষ! কিন্তু সবচেয়ে করুণ দৃশ্য কোনটি জানেন?
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের তৈরি করা এই বয়ান, গুজব কিংবা এআই (AI) দিয়ে বানানো ডিপফেক ভিডিওতে খুব সহজেই বিশ্বাস করে ফেলেন আমাদের দেশের এক বিশালসংখ্যক সাধারণ মানুষ। সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের কোনো তাগিদ নেই, মূলধারার কোনো নিরপেক্ষ সংবাদের খোঁজ নেই—প্রিয় নেতার মুখ থেকে যা বের হলো, সেটাই পরম সত্য।
প্রশ্ন হলো, আমরা কেন এত সহজে এসব ভূয়া বয়ানে বিশ্বাস করি?
দলীয় অন্ধত্ব: তথ্যটি ‘সত্য নাকি মিথ্যা’—আমরা তা যাচাই করার আগেই দেখি তথ্যটি ‘আমার প্রিয় দলের পক্ষে নাকি বিপক্ষে’। যদি পক্ষে হয়, তবে গুজব হলেও সেটা আমরা শেয়ার করি।
ডিজিটাল অজ্ঞতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো লোগো বসিয়ে বানিয়ে দেওয়া একটা ফটোকার্ড বা এআই দিয়ে এডিট করা ভয়েস ক্লিপ দেখলেই মানুষ মনে করে এটিই বুঝি সত্য সংবাদ।
যাচাই না করার সংস্কৃতি: যুক্তি দিয়ে ভাবার চেয়ে আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা আমাদের সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে।
নেতারা ভুয়া বয়ান দেন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে, আর ক্ষতিটা কার হয়? সাধারণ মানুষের! পরিবারের সাথে স্বজনের সংঘাত হয়, বন্ধুত্বের মধ্যে রাজনীতি এসে দেয়াল তোলে, আর দিনশেষে একটি সমাজ আরও বেশি বিভ্রান্ত ও বিভাজিত হয়ে পড়ে। আমরা যখন চোখ বন্ধ করে নেতাদের কথা বিশ্বাস করি, তখন আমরা নিজের বিবেককে তাদের হাতে বন্ধক দিয়ে দিই।
রাজনীতি থাকবে, মতপার্থক্য থাকবে—কিন্তু নেতাদের অন্ধ অনুকরণ নয়, সত্যের অনুগামী হওয়াই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। প্রিয় নেতা যা বলছেন, তা সত্যি তো? তিনি কি আপনাকে মূল তথ্য বলছেন, নাকি কোনো চাল চালছেন?
নেতার বয়ানে অন্ধ বিশ্বাস নয়—প্রশ্ন করুন, যাচাই করুন, তথ্য জেনে মতামত দিন। বিবেক কোনো দলের হয় না, বিবেক হয় সত্যের!
প্রিন্ট করুন



















Discussion about this post