ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পবিরোধী এক নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের নীতি ও তাঁর প্রশাসনের স্বৈরাচারী আচরণের প্রতিবাদে আজ শনিবার লাখো মার্কিন নাগরিক রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। নো কিংস বা ‘আমাদের কোনো রাজা নেই’ স্লোগান সামনে রেখে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৩ হাজার ২০০-এর বেশি শহরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে এরই মধ্যে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন। আয়োজকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক দিনে সবচেয়ে বড় অহিংস প্রতিবাদের ঘটনা।
গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করে বিচার বিভাগের ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিবাদে ‘নো কিংস’ আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, ট্রাম্প নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে বা রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, যা মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী।
এর আগে নো কিংস স্লোগান নিয়ে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দুটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্লোগানটাই এখন আন্দোলন বা বিক্ষোভের নামে পরিণত হয়েছে। গত বছরের দুটি বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।
কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নো কিংস আন্দোলন পরিচালনা করে না। ‘ইন্ডিভিজিবল’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম এ আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা হলেও বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন, নাগরিক অধিকার প্ল্যাটফর্ম এবং যুদ্ধবিরোধী কিছু গোষ্ঠী সম্মিলিত এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে এবারের নো কিংস বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হামলার এক মাস পূর্তির এই দিনটি গতকালের বিক্ষোভের জন্য বেছে নিয়েছেন আয়োজকেরা। তাঁদের মতে, এই অবৈধ ও বিপর্যয়কর যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বিপদে ফেলছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইন্ডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, ছোট ছোট শহরে এবার বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটাই এবারের বিক্ষোভের বিশেষত্ব। এবার আইডাহো, ওয়াইমিং ও ইউটাহর মতো রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোর একাধিক শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে।
এসব বিক্ষোভকে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত গুরুত্ব দিতে নারাজ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন এসব বিক্ষোভকে তুচ্ছ করে ‘ট্রাম্পবিরোধীদের মানসিক উন্মাদনা নিরাময়ের চিকিৎসা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) মনে করে, এই গণজোয়ারের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন নতিস্বীকার করতে বাধ্য হবে।
চলতি বছরের শেষে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে নো কিংস আন্দোলনের এই বিশাল বিক্ষোভ ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
ওয়াশিংটনের বিখ্যাত জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সামনে শুক্রবার বিখ্যাত মার্কিন শিল্পী, সাংবাদিক ও লেখকদের অনেকে জড়ো হয়েছিলেন। অস্কারজয়ী প্রবীণ অভিনেত্রী ও অধিকারকর্মী জেন ফন্ডারের নেতৃত্বে এই সমাবেশ থেকে ট্রাম্পের ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসনের কড়া সমালোচনা করা হয়। ৮৮ বছর বয়সী ফন্ডা সতর্ক করে বলেন, ‘যখন ভয় জেঁকে বসে, তখন নীরবতা ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের এখনই এই স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাস মুছে ফেলতে বই নিষিদ্ধ করছে এবং শিল্পকলা ও গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। শিল্পীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন মুছে ফেলা স্বৈরতন্ত্রের প্রাথমিক ধাপ।
প্রবীণ সাংবাদিক জয় রিড ও জিম অ্যাকোস্টা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার একটি আদর্শবাদী শাসনব্যবস্থা বা রেজিমের মতো আচরণ করছে, যেখানে ভিন্নমতের কোনো স্থান নেই।
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ ও ম্যাগি রজার্স গান গেয়ে কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানান। জেন ফন্ডা ও জোয়ান বায়েজ গতকাল মিনেসোটার নো কিংস বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন।
প্রিন্ট করুন


















Discussion about this post