ডেস্ক রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ফের এক বিশাল ও নজিরবিহীন ধাক্কা! গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠেছে পুরো অঞ্চল। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের এই হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন ১৩ জন, আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদির ভূখণ্ডে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। এই হামলার পর প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আজ সীমিত পরিসরে বিমানবন্দরটি আংশিক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও, হুতিরা নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়ায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যখন তিল তিল করে দেশকে বিনিয়োগ ও পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছিলেন, ঠিক তখনই হুতিদের এই আগ্রাসন দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। জানা গেছে, গত ১ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে শুধু রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরেই অন্তত ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এমনকি দাম্মামের কিং ফাহাদ বিমানবন্দর ও বিভিন্ন তেল স্থাপনাও আক্রমণের শিকার হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকার পরও সৌদি আরব কেন সব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারছে না? বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিদের বহুমুখী ও আকস্মিক আক্রমণ এবং প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালির পর লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ হাতবদল হওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
কিন্তু কে এই হুতিরা? ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের শিয়া মতাবলম্বী জায়দি সম্প্রদায়ভুক্ত এই গোষ্ঠীটি নব্বইয়ের দশকে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলেও, ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়। ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অংশ হিসেবে হুতিদের অস্ত্রভাণ্ডার এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।
তাদের হাতে রয়েছে ‘খাইবার শেখান’ ও ‘তুফানের’ মতো আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোনের স্থানীয় সংস্করণ ‘ওয়ায়েদ-১ ও ২’। জাতিসংঘের তদন্তে উঠে এসেছে, চীন ও ইরানের তৈরি বিভিন্ন সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল চোরাই পথে ইয়েমেনে নিয়ে সেখানে জোড়া লাগিয়ে এসব ভয়ংকর অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে।
ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলা সত্ত্বেও হুতিরা পিছু হটেনি; বরং পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব ইয়েমেনে সামরিক অভিযান জোরদার করলেও, এই সংকট আঞ্চলিক শান্তি ও অর্থনীতির জন্য কতটা ভয়াবহ রূপ নেয়—এখন সেটাই দেখার বিষয়।
প্রিন্ট করুন



















Discussion about this post