ডেস্ক রিপোর্ট: মিসরের সঙ্গে গাজা উপত্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধের আওতায় সীমিত সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে অল্প সংখ্যক বাসিন্দা গাজা ছাড়তে পারছেন এবং কিছু গৃহহীন মানুষ ফিরতে পারছেন। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেন, প্রথম দিনে প্রায় ৫০ জন ফিলিস্তিনি গাজায় প্রবেশ করবেন এবং একই সংখ্যক মানুষ গাজা ছাড়তে পারবেন। তবে সবাইকে ইসরায়েলের কড়া নিরাপত্তা যাচাইয়ের মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক ধাপের আওতায় এটি ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
যুদ্ধ চলাকালে রাফাহ ক্রসিং দীর্ঘদিন কার্যত বন্ধ ছিল। ফলে দুই মিলিয়নের বেশি গাজাবাসীর জন্য প্রবেশ ও প্রস্থানের প্রধান পথটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে যাতায়াতের জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাত্রীদের আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ ফিলাডেলফি করিডরের শক্তিশালী চেকপয়েন্ট পার হতে হচ্ছে।
সীমান্ত খুললেও সহিংসতা থামেনি। ইসরায়েলি হামলায় গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিন বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।
এদিকে বিদেশি সাংবাদিকদের এখনও গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি, ফলে স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার চেয়ে দায়ের করা এক আবেদনের শুনানি সুপ্রিম কোর্টে চলছে। ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের দাবি, সাংবাদিক প্রবেশে সেনাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
রাফাহ সীমান্ত পুনরায় চালু হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তের অংশ। এই চুক্তির আওতায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ, জিম্মি মুক্তি এবং ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনী এখনও গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। গাজার বহু বাসিন্দা উপকূলীয় এলাকায় অস্থায়ী আশ্রয়ে কার্যত বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর পরিকল্পনায় হামাসকে অস্ত্র ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থিত একটি প্রশাসনের হাতে পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি এবং উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রিন্ট করুন




















Discussion about this post