ডেস্ক রিপোর্ট: রাশিয়া যদি ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, উত্তাপ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালানো বন্ধ করে, তবে ইউক্রেনও ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ করতে প্রস্তুত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর তিনি এই সম্মতির কথা জানান।
টেলিগ্রাম ও এক্সে দেওয়া বার্তায় জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে ৪০ মিনিটের আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, উভয় দেশই শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এই অর্থহীন যুদ্ধের অবসান চায় এবং কূটনৈতিক পথ সুগম করতে সম্ভাব্য উত্তেজনা হ্রাসের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে ইউক্রেন একতরফাভাবে আক্রমণ বন্ধ করবে বা রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে—এমন কোনো সম্ভাবনা তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বৈশ্বিক ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে চিন্তিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠকের আগেই জানান, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বাড়ছে, যা নিয়ে তারা সমাধান খুঁজছেন। ক্রেমলিনও পূর্বে মার্কিন জ্বালানি বিরতির প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও তাদের সামুদ্রিক জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছিল।
আগামী শীতে সম্ভাব্য রুশ বিমান হামলা থেকে রক্ষা পেতে জেলেনস্কি ট্রাম্পের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নতুন চালান চেয়েছেন। মার্কিন সংকট মেটাতে তিনি প্রস্তাব দেন, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে জার্মানির কাছ থেকে ইউক্রেনের ৬০০টি প্যাট্রিয়ট পাওয়ার কথা রয়েছে, তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজস্ব মজুত থেকে ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র দিলে পরবর্তীতে জার্মানির সরবরাহ থেকে তা যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দেওয়া হবে। ট্রাম্প প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করলেও এখনো চূড়ান্ত সম্মতি দেননি।
একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে জানান, গোয়েন্দা তথ্যানুসারে রাশিয়া যেকোনো সময় ইউক্রেনের ওপর আবার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে। ২০ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে মস্কো তেল শোধনাগারের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিকে ১৫ সেপ্টেম্বর রাশিয়া প্রায় ২০০টি ড্রোন দিয়ে কিয়েভের পেট্রোল পাম্প ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে আঘাত হানে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতির পক্ষে জোর তদ্বির করেছেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনকে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে আরও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
খবর : আল জাজিরা
প্রিন্ট করুন




















Discussion about this post