ডেস্ক রিপোর্ট: এক্সএআইয়ের এআই টুল গ্রোগ ইলন মাস্কের সাবেক স্ত্রী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের অশ্লীল, অপমানজনক এবং যৌন হয়রানিমূলক ডিপফেক ছবি তৈরি করে ছড়িয়ে দিয়েছে। সম্মতি ছাড়াই এসব ছবি ছড়িয়ে দেবার অপরাধে মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার এক সন্তানের মা সেন্ট ক্লেয়ার। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিমকোর্টে দায়ের করা মামলায় সেন্ট ক্লেয়ার জানান, গ্রোগ এসব ছবি তৈরি বন্ধ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর করেনি।
এসব ডিপফেক ছবির মধ্যে এমন ছবিও রয়েছে, যেখানে তাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে। গ্রোগের মাধ্যমে তার নামে ডজনেরও বেশি যৌন হয়রানিমূলক ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলায় দণ্ডমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন অ্যাশলি।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইলন মাস্ক এক্সে লেখেন, গ্রোগ ব্যবহার করে তৈরি ছবির দায় ব্যবহারকারী নিজের। গ্রোগ নিজে থেকে কিছু তৈরি করে না, সবই ব্যবহারকারীর অনুরোধে। তিনি লেখেন, গ্রোগ ব্যবহার করে কেউ অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করলে, সেটি আপলোড করার মতোই তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
নারী ও শিশুদের যৌনভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগে টানা দুই সপ্তাহ ধরে সমালোচনার মুখে পড়ে এক্সএআই। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক্সএআই জানায়, যেসব দেশে এটি অবৈধ, সেখানে গ্রোগ ও এক্স প্ল্যাটফর্মে বাস্তব মানুষের বিকিনি, অন্তর্বাস বা অনুরূপ পোশাকে ছবি তৈরির সুবিধা জিওব্লক করা হবে।
এছাড়াও, এক্স বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, শিশু যৌন শোষণ, সম্মতিহীন নগ্নতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন কনটেন্টের বিরুদ্ধে আমাদের শূন্য সহনশীলতা নীতি রয়েছে।
২৭ বছর বয়সী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের ইলন মাস্কের সঙ্গে এখন সম্পর্ক নেই। পেশায় তিনি একজন ডানপন্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার, লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার। ২০২৪ সালে তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।
সেন্ট ক্লেয়ারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন ভুক্তভোগীদের অধিকারবিষয়ক আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ। তিনি বলেন, এক্সএআই কোনোভাবেই একটি নিরাপদ নয় এবং এটি জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। সম্মতি ব্যতীত অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের নির্যাতনমূলক ও অবমাননাকর ছবি তৈরি করে এক্সে প্রকাশের মাধ্যমে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অ্যাশলিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে অপমান ও হয়রানি করতেই গ্রোগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, এক্স কর্তৃপক্ষ সেন্ট ক্লেয়ারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ করেছে। তার এক্স অ্যাকাউন্টের আয়ের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। তাকে নিয়ে আরো বেশি ডিপফেক ছবি তৈরি করা হয়েছে। এসব ছবির মধ্যে সেন্ট ক্লেয়ারকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী হিসেবে স্ট্রিং বিকিনি পরা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে নিয়ে ‘ফ্লস’ দিয়ে বানানো বিকিনি পরানো–এমন অনুরোধেও গ্রোগ সাড়া দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ছবি সম্পূর্ণভাবে সম্মতিহীন। গ্রোগ তার শরীরে কৃত্রিমভাবে ট্যাটু যোগ করেছে, যার একটি ছিল ‘ইলন’স হোর’ লেখা। সেন্ট ক্লেয়ার একাধিকবার ছবি অপসারণের অনুরোধ জানানোয় গ্রোগ ও এক্সএআইয়ের কাছে তার অসম্মতির বিষয়টি স্পষ্ট ছিল।
ইহুদি ধর্মাবলম্বী সেন্ট ক্লেয়ার আরো অভিযোগ করেন, এক ছবিতে তাকে স্বস্তিকা চিহ্নযুক্ত বিকিনি পরানো হয়েছে। মামলায় বলা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক—দুই অবস্থাতেই তাকে দেখিয়ে সম্মতিহীন ও বাস্তবসম্মত যৌন ডিপফেক তৈরি ও ছড়িয়ে এক্স আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। এসব ছবির জন্য এক্সএআই সরাসরি দায়ী বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, তিনি নিজেকে ‘ভীত ও গভীরভাবে চিন্তিত বলে’ মনে করছেন। তার ভাষায়, এটি হয়রানির আরেকটি হাতিয়ার। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মতি।
তিনি আরো বলেন, মাস্ক শিশুদের নিয়ে ‘একটি লেজিয়ন’ গড়তে চান—এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে করার পর থেকেই মাস্কের কিছু সমর্থক তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছে।
উল্লেখ্য, মাস্কের আরো তিন নারীর সঙ্গে মোট ১৩টি সন্তান রয়েছে।
প্রিন্ট করুন




















Discussion about this post