ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বের অন্যতম জনবহুল মহানগরী মেক্সিকো সিটি এক ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শহরটি এতো দ্রুত গতিতে মাটির নিচে দেবে যাচ্ছে যে তা এখন মহাকাশ থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
নাসা এবং ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত শক্তিশালী রাডার সিস্টেম ‘নিসার’-এর চিত্রে এ উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ধরা পড়েছে।
নিসার স্যাটেলাইটের তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকো সিটির কিছু অংশ প্রতি মাসে প্রায় ০.৮ ইঞ্চি করে দেবে যাচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, বছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯.৫ ইঞ্চিরও বেশি। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে সংগৃহীত তথ্য থেকে জানা যায়, এই অবনমন বর্তমান বিশ্বের যেকোনো রাজধানীর তুলনায় দ্রুততম।
সংকটের মূলে পানির অভাব ও নগরায়ন
এই ভৌগোলিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলনকে।
মেক্সিকো সিটি একটি প্রাচীন জলস্তরের ওপর অবস্থিত, যা শহরের ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের প্রায় ৬০ শতাংশ পানির চাহিদা পূরণ করে। বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত পানি তোলার ফলে মাটির নিচের স্তরগুলো সংকুচিত হয়ে আসছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও বিশাল বিশাল অট্টালিকার ভার, যা কাদার আধিক্য থাকা মাটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রভাবিত হচ্ছে বিমানবন্দর ও ঐতিহাসিক নিদর্শন
শহরের এই অবনমনের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ‘বেনিটো জুয়ারেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’। এছাড়া শহরের রাস্তাঘাটে ফাটল, ভবন হেলে পড়া এবং ট্রেন চলাচলের পথে বিঘ্ন ঘটার মতো ঘটনা যেন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত ১৯১০ সালে নির্মিত ১১৪ ফুট উচ্চতার ‘অ্যাঞ্জেল অব ইন্ডিপেন্ডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভটির চারপাশের মাটি এতোটাই নিচে নেমে গেছে যে, বর্তমানে এর ভিত্তিমূলে নতুন করে ১৪টি সিঁড়ি যুক্ত করতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে মেক্সিকো সিটি খুব শিগগিরই ‘ডে জিরো’ বা চরম পানিশূন্যতার মুখে পড়বে।
নিসার সায়েন্স টিমের সদস্য ডেভিড বেকায়ের্ট বলেন, ‘মেক্সিকো সিটি দেবে যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই জানা ছিল, কিন্তু নিসার স্যাটেলাইটের পাঠানো তথ্য আমাদের এই সংকটের গভীরতা স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করছে।’
কেবল ভূমি অবনমন নয়, নিসার স্যাটেলাইটটি হিমবাহের নড়াচড়া এবং আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোও পর্যবেক্ষণ করছে, যা ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজ্ঞানীদের নতুন দিশা দেখাবে।
খবর : সিএনএন
প্রিন্ট করুন




















Discussion about this post