ইউ এস বেঙ্গল বাংলাদেশ রিপোর্ট: শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ আজ এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক মোড়ে দাঁড়িয়ে। প্রশ্ন উঠেছে—কে ধরবেন এই দলের হাল?দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণ ও সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে এক বড় শূন্যতা।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি মানেই বঙ্গবন্ধু পরিবার এবং শেখ হাসিনা।তার পরিবারের সবাই যারা আছে তারাই আওয়ামী লীগকে ধারণ করবে এরকম ধারণা পোষণ করে থাকে আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা কর্মীরা। তবে বয়স বেড়ে যাওয়া এবং বার্ধক্য জনিত কারণে শেখ হাসিনা যখন নেতৃত্বে আর সক্রিয় থাকবেন না সেই মুহূর্তে এই বড় একটা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির চাবিকাঠি কার হাতে থাকবে এটা নিয়ে বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক আগ্রহী মানুষের মধ্যে নানান কৌতূহল দেখা দিয়েছে ।
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর এত বড় একটা রাজনৈতিক দলের অবস্থান এখন অনেকটাই নড়বড়ে এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বেশিরভাগ নেতাই বিদেশে এবং আত্মগোপনে রয়েছে। অনলাইনে সক্রিয় থাকলেও বাস্তব মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সক্রিয়তা একেবারে বটল লাইনে চলে আসছে। শেখ হাসিনার অবর্তমানে তার দুই সন্তান অর্থাৎ সজীব ওয়াজেদ জয় এবং পুতুল আওয়ামী লীগের রাজনীতির নেতৃত্ব দেওয়ার মতো বাস্তবতায় আছে কিনা সেটা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে।
কেননা ইতিমধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয় আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়েছেন এবং পুতুল ভারতে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেছেন এবং তারা বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেয়ার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ প্রকাশ করে না । বঙ্গবন্ধু পরিবারের ভবিষ্যৎ কর্ণধারী যদি রাজনীতিতে সক্রিয় হতে না পারে তাহলে বঙ্গবন্ধু পরিবারের আর অন্যান্য সদস্য যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ ফজলে নূর তাপস । অন্যান্য আরো যারা রয়েছেন তারাও বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।
ঢাকার নিকটবর্তী নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সবথেকে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতার মধ্যে শামীম ওসমান এবং তাদের পরিবার এবং পাশাপাশি আইভি রহমান খুবই সক্রিয় নেতৃত্ব। তবে তারা বলিষ্ঠ নেতৃত্ব হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্বে আসার মত ওই ধরনের মাপকাঠিতে পড়ে বলে মনে করেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আর যারা দীর্ঘসময়ে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন তাদের বয়সের ভারে এবং বার্ধক্যজনিত কারণে আগামী রাজনীতিতে আদৌ এই নেতৃত্ব ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ।
ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুরের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতা সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে তার নেতৃত্ব দুর্বল অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । পরিশেষে প্রশ্ন থেকেই যায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিক ভবিষ্যৎ চাবিকাঠি তাহলে কার হাতে ? নেতৃত্বের এই সংকট কাটিয়ে আওয়ামী লীগ কি পারবে নতুন রূপে ফিরতে, নাকি এই রাজনৈতিক শূন্যতা দীর্ঘায়িত হবে?
প্রিন্ট করুন



















Discussion about this post