ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের পর পার হয়ে গেছে চারটি রক্তক্ষয়ী মাস। যুদ্ধের প্রথম দিনেই বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর পর দায়িত্ব নেন ছেলে মোজতবা খামেনি। দীর্ঘ ৪০ দিনের তীব্র হামলায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ধ্বংস হয়েছে দেশটির ৮৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন শিল্প, গুঁড়িয়ে গেছে নৌবাহিনীর গর্ব ‘আইআরআইএস দেনা’। অবশেষে ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, কাতারের দোহায় শান্তি আলোচনা শুরু করেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। কিন্তু এই শান্তি আলোচনার তীব্র বিরোধী এক পক্ষ— ইসরায়েল।
আমরা ইরানের ওপর আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। লক্ষ্যবস্তু ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে। আমাদের বিমানবাহিনী এখন কেবল ফাইটার জেট মোতায়েনের আদেশের অপেক্ষায় আছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি মনে করেন এই দোহা আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে না, কিংবা ইরান যদি ইসরায়েলে কোনো আঘাতের চেষ্টা করে, তবে মুহূর্তের মধ্যে আবারও যুদ্ধ শুরু হবে। আর আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য পরিষ্কার— ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যার জন্য আমরা চিহ্নিত করে রেখেছি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই ফাঁকা হুমকি আমাদের পিছু হটাতে পারবে না। আমাদের জনগণ এবং আমাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও অত্যন্ত শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। হাজারো হামলার পরও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েনি ইরান। গ্রানাইট পাথরের পাহাড় কেটে তৈরি মাটির নিচের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চারের মজুত এখনো অক্ষত। হরমুজ প্রণালির কাছের ৯০ শতাংশ আন্ডারগ্রাউন্ড বেস আবারও সচল করা হয়েছে। বিমানবাহিনী ধ্বংস হলেও, নতুন ‘আরাশ-ই কামানগির’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করে নিজেদের সক্ষমতা জানান দিয়েছে ইরান।
মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ আর বেসামরিক অবকাঠামোর ৭০ শতাংশ ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি— যুদ্ধ আবার শুরু হলে এবার আঘাত আসবে ইরানের বাকি থাকা বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর। দোহায় যখন শান্তির টেবিল সাজানো হচ্ছে, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালিতে ভাসছে মাইন, আর আকাশে উড়ছে যুদ্ধের শকুনেরা। শান্তি নাকি আরও এক প্রলয়ংকরী যুদ্ধ? উত্তর লুকিয়ে আছে সময়ের গর্ভে।
প্রিন্ট করুন




















Discussion about this post