ডেস্ক রিপোর্ট: হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরান ইসলামাবাদ চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তেহরান উত্তেজনা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা মেনে চলতে একেবারেই অক্ষম বলে কঠোর সমালোচনা করেছে আমিরাত।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা এবং তার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানি হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রতিক্রিয়া জানান আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কাতার ও সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ বাহরাইন ও কুয়েতে বারবার আগ্রাসনের মাধ্যমে ইরান ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে, তারা সমঝোতা চুক্তির শর্ত মেনে চলতে ব্যর্থ। উত্তেজনা প্রশমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা পালন করতে তেহরান সম্পূর্ণ অপারগ।
ইসলামাবাদ চুক্তির শর্ত কী ছিল
১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা অনুসারে, চুক্তির মেয়াদকালীন (স্বাক্ষরের পর ৬০ দিন) ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অবরোধ সৃষ্টি করবে না এবং বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা থেকে বিরত থাকবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহার করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ ছিল।
কিন্তু গত ৫ জুলাই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজে তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো হলো, কাতারের ‘এমটি আল-রেকাইয়াত’, সৌদি আরবের ‘এমটি ওয়াদিয়ান’ এবং লাইবেরিয়ার ‘এমটি সাইপ্রাস প্রসপারিটি’।
এই হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনী গতকাল ইরানের ৮০টি সামরিক স্থাপনায় নির্ভুল হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ফের চালু করে ওয়াশিংটন।
ইরানও পাল্টা জবাব দিয়ে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সেনা সংশ্লিষ্ট ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে।
হামলা-পাল্টা হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। তিনি ইরানের বর্তমান সরকারকে ‘অসুস্থ’ ও ‘নিকৃষ্ট’ বলে আখ্যায়িত করেন।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ দাবি করেন, ইসলামাবাদ চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার দায় পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের।
খবর : সিএনএন
প্রিন্ট করুন




















Discussion about this post