ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিগত কয়েকটি দিন বেশ অস্বস্তিকর ও বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার মধ্য দিয়ে কেটেছে। নিজের তৈরি কিছু সংকট এবং ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বিরোধিতার মুখে পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বেশ কিছু বড় ও ছোট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ট্রাম্প সাধারণত নিজের পছন্দমতো তথ্য ও বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে চলতে পছন্দ করলেও, এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন; কারণ তার বিরোধীরা এবার কোনো বাইরের কেউ নন, বরং তার নিজ দলের ও সবচেয়ে অনুগত মিত্ররাই।
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের কাছে রিফ্লেক্টিং পুলে ভাঙচুরের অভিযোগে সাবেক অলিম্পিক অ্যাথলেট ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে করা মামলার ক্ষেত্রে এমনটি দেখা গেছে। বিচার বিভাগের এক সময়ের ফক্স নিউজ হোস্ট এবং ট্রাম্পের অনুগত কট্টর সমর্থক জেনিন পিরো আদালতে জানান, ওই ভাঙচুর কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ত্রুটিপূর্ণ মেরামতের ফলাফল।
বিচারক ও সম্ভাব্য জুরিবোর্ডের সামনে এই দুর্বল মামলা টিকবে না বুঝতে পেরে তিনি মামলাটি তুলে নেন। কিন্তু ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিরোকে কড়া সমালোচনা করে জানান যে তিনি ছাতার মতো গুটিয়ে গেছেন।
অন্যদিকে ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের আরেকটি রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে হয়েছে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সাবেক ফৌজদারি প্রতিরক্ষা আইনজীবী টড ব্ল্যাঞ্চের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে। ট্রাম্পের রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সরকারি বিচার প্রক্রিয়ার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল নিয়ে রক্ষণশীল দুই রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নি এবং থম টিলিস আপত্তি জানান।
এই তহবিলের বিরোধিতা করে তারা ব্ল্যাঞ্চের মনোনয়ন আটকে দেন এবং ওই তহবিল পুনরুজ্জীবিত করার যেকোনো চেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করার লিখিত নিশ্চয়তা দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত সিনেটের রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ মেনে নিয়ে ব্ল্যাঞ্চ সেই শর্তে রাজি হন এবং সিনেটরদের উদ্বেগ দূর করতে দুটি চিঠি প্রকাশ করেন।
তবে এই অভ্যন্তরীণ আইনি ও রাজনৈতিক ঝামেলার চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। তেহরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা এবং মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের হুমকির মধ্যেই ট্রাম্প আবার ইরানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানি কর্মকর্তারা নিজেরাই বৈঠকের অনুরোধ করার পর প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করছে। যদিও মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে যে ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালির শিপিং ব্যবস্থা নিয়ে সীমিত আলোচনা ছাড়া বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়নি।
এই ধরনের নানা জটিলতা ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে মার্কিন জনগণের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে, যা আধুনিক মার্কিন ইতিহাসের দ্বিতীয় মেয়াদী প্রেসিডেন্টদের মধ্যে অত্যন্ত কম।
তবে এই কম জনপ্রিয়তা ও জরিপের ফলাফল পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তার প্রকৃত জনপ্রিয়তা সর্বকালের সেরা অবস্থানে রয়েছে। সামনেই মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে ভোটাররা প্রধান ভূমিকা পালন করবেন।
প্রিন্ট করুন




















Discussion about this post