ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্ব রাজনীতিতে কি তবে সবচেয়ে বড় বরফ গলতে চলেছে? গত কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর, অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান! কিন্তু আসলেই কি যুদ্ধ থামছে, নাকি পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো হিসাব?
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি ১৪-দফার খসড়া চুক্তি বা Memorandum of Understanding নিয়ে আলোচনা করছে। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো একটি ৬০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি।
শর্ত অনুযায়ী, ইরান বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় উন্মুক্ত করবে এবং সাগরে পেতে রাখা মাইনগুলো অপসারণ করবে। বিনিময়ে, যুক্তরাষ্ট্র গত এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর জারি করা কঠোর নৌ-অবরোধ তুলে নেবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে!
কিন্তু সমস্যাটা ঠিক কোথায়? ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। অথচ তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—চুক্তি এতোটাও কাছাকাছি নয়!
কারণ, ইরান তাদের অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পরমাণু জ্বালানির মজুত আমেরিকার হাতে তুলে দিতে একদমই রাজি নয়। তারা বলছে, পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে যুদ্ধ পুরোপুরি থামার পর। এছাড়া, ইরান আরেকটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছে—এই চুক্তির আওতায় শুধু ইরান নয়, লেবাননেও ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। অন্যদিক ট্রাম্প চাইছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেন ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।
এই চুক্তির ওপর শুধু ওয়াশিংটন বা তেহরানের ভাগ্য নির্ভর করছে না। পাকিস্তানের এই শান্তি উদ্যোগে পর্দার আড়াল থেকে সমর্থন দিচ্ছে চীনও। এই চুক্তির সামান্য সম্ভাবনাতেই জাপানের শেয়ার বাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে মার্কিন কংগ্রেসের কট্টরপন্থী নেতারা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘বিরাট ভুল’ বলে সমালোচনা করছেন।
ট্রাম্পের ভাষায়—হয় একটি “মহা ঐতিহাসিক চুক্তি” হবে, নয়তো কিছুই হবে না। আপনার কি মনে হয়? দীর্ঘ ৪৭ বছরের শত্রুতা ভুলে আমেরিকা ও ইরান কি সত্যিই শান্তিতে ফিরতে পারবে?
প্রিন্ট করুন



















Discussion about this post