ডেস্ক রিপোর্ট: ইসরাইলি সেনারা শুক্রবার থেকে গাজা সিটিতে ‘ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতিমূলক অভিযান’ শুরু করেছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জনবহুল এ নগরীকে ‘বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করেছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিখাই আদরেই মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানান, পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনার ভিত্তিতে আজ সকাল ১০টা থেকে গাজা সিটিতে সেনা কার্যক্রমের সাময়িক মানবিক বিরতি আর কার্যকর হবে না। নগরীটিকে এখন থেকে বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, সেনাবাহিনী ‘সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর’ বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে, একইসঙ্গে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও সহযোগিতা করবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ শুরু হয়। আবাসিক এলাকায় কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান টানা উড্ডয়ন করেছে এবং আল-কারামা, আল-সাফতাওয়ি, আবু ইস্কান্দার, আল-জাল্লা সড়কের শেষ প্রান্ত ও ইন্টেলিজেন্স টাওয়ার এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) সতর্ক করে বলেছে, গাজা সিটিতে সামরিক অভিযান তীব্রতর হলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ আবারও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
সংস্থাটি আরও যোগ করেছে, অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে। নতুন করে হামলা হলে মানবিক বিপর্যয় আরও তীব্র হবে।
গত মার্চ থেকে ইসরাইল গাজায় পূর্ণ অবরোধ আরোপ করেছে। ফলে ২৪ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মৌলিক সেবা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় প্রায় ৬৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা।
এর আগে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে ইসরাইলকে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

Discussion about this post