Print Date & Time : 9 July 2026 Thursday 12:04 am

হরমুজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ডেস্ক রিপোর্ট: হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)- এর বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় দুটি জাহাজই উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও (ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস) জানিয়েছে, মঙ্গলবার( ৭ জুলাই) ভোরে ওমানের লিমাহ উপকূলের পূর্বে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে আগুনে পুড়ে যায়।

সংস্থাটি জানায়, দক্ষিণমুখী জাহাজটি লিমাহ থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১৫ কিলোমিটার) পূর্বে থাকাকালে এর বাম পাশে আঘাত লাগে। এতে আগুনের সূত্রপাত হলেও কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

তবে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখিত জাহাজ এবং ইউকেএমটিওর প্রতিবেদনের ট্যাংকারটি একই কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রস্তুত’—আইআরজিসির সতর্কবার্তা

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহান্তে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সামুদ্রিক রেডিও বার্তায় জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানায়, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আপনাদের লক্ষ্য করে হামলার জন্য প্রস্তুত। ‘

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজগুলোর একটি ছিল ‘আল রেকাইয়াত’, যা কাতারের নাকিলাত (কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি) পরিচালিত একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ।

জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষের ওপরের অংশে আঘাত লাগে এবং সেখানে আগুন ধরে যায়। একটি রেডিও বার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লেগেছে এবং ধোঁয়ায় ভরে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পুরো মাত্রা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তবে সব নাবিক নিরাপদে আছেন।

হামলার সময় জাহাজটি ওমান উপসাগরে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থান করছিল।
এ ঘটনায় নাকিলাত, কাতারএনার্জি কিংবা কাতারের আন্তর্জাতিক মিডিয়া অফিস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি এখন বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।