ডেস্ক রিপোর্ট: গাজা সংঘাত নিয়ে ব্রিটেন ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির মধ্যে নেতানিয়াহু সরকারের প্রতিনিধিদের আগামী মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠেয় একটি বড় অস্ত্র মেলায় আমন্ত্রণ জানানো হবে না। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ‘DSEI UK 2025′ আয়োজনে ইসরায়েলি সরকারের কোনো প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না।’
লেবার প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সরকার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গাজায় ব্যবহারের জন্য ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স স্থগিত করেছে। ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনাও স্থগিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনার প্রতিবাদে দুই অতি-ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গাজায় সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর ইসরায়েলি সরকারের সিদ্ধান্ত ভুল। এই যুদ্ধের অবসানের জন্য এখনই একটি কূটনৈতিক সমাধান বের করতে হবে। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়া এবং গাজার জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করা উচিত।’
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ‘এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত এবং দুঃখজনক বৈষম্যমূলক আচরণ। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রদর্শনী থেকে সরে আসবে এবং জাতীয় প্যাভিলিয়ন স্থাপন করবে না।’
স্টারমার গত মাসে ঘোষণা করেছিলেন, ইসরায়েল যদি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মতিসহ পদক্ষেপ না নেয়, তবে সেপ্টেম্বরে ব্রিটেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।
এদিকে, ফ্রান্স গত জুন মাসে প্যারিস এয়ার শোতে ‘আক্রমণাত্মক অস্ত্র’ প্রদর্শনের জন্য বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারকের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শনিবার (৩০ আগস্ট) কোপেনহেগেনে একটি বৈঠকে ইসরায়েল এবং হামাসের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করবেন। সুইডেন এবং নেদারল্যান্ডস ইতোমধ্যে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।