Print Date & Time : 29 March 2026 Sunday 4:02 am

রুদ্ধ হতে পারে আরেকটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ

ডেস্ক রিপোর্ট: গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের দিকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তুলনামূলকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি। কারণ, এসব হামলা ছিল ছড়ানো-ছিটানো এবং অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র পথেই প্রতিরোধ করা হয়েছিল।

তবে কয়েক মাস পর, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে একটি হুথি ড্রোন তেল আবিবের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।

ইয়েমেনের হুথিরা আবার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করলে তা দেশটির জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করবে, যদিও এতে বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তবে হুথিরা যদি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করে পুনরায় হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এর প্রভাব হতে পারে অত্যন্ত নাটকীয়।

বর্তমানে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ করছে। এশিয়ার বাজারমুখী এসব তেলবাহী জাহাজ ইয়েমেনের পাশ দিয়ে দক্ষিণমুখে অগ্রসর হয়।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত হুথিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে প্রায় ২০০টি হামলা চালায়। এতে ৩০টিরও বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত একটি জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। এর ফলে বাব আল-মানদাব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

যদি ইরান মূলত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং একই সময়ে হুথিরা লোহিত সাগরের পথও অবরুদ্ধ করে, তাহলে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুতর বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।