Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 8:37 pm

যে কারণে কানাডার ওপর ক্ষুব্ধ ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট: তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনকে সমর্থন করায় কানাডার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই।

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করে কানাডা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের যে কথা বলছে সে কথার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বাকাই ইরান ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যেদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কানাডার সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে পুরো দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রেরই একটি অংশ হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন, ঠিক সেদিনই কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী তাদের আধিপত্যবাদী ও দমন-পীড়নকারী প্রতিবেশীকে আরও তোষামোদ করার পথ বেছে নিয়েছেন। তারা এখন এমন এক বিবৃতি দিলেন যা আমাদের অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিটি তথ্যকেই বিকৃত করছে।

বাকাই বলেন, কানাডা খুব ভালো করেই জানে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানবিরোধী আগ্রাসী যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও নিরাপদ ছিল।

ইরানি মুখপাত্র আরও বলেন, কানাডা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন এবং এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের অবৈধ ও হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছে, অন্যদিকে নিজেকে শান্তি ও নিরাপত্তা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে কানাডা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি নৌ চলাচলের স্বাধীনতাই প্রকৃত বিষয় হয়, তবে কানাডা কেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন ও অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের সমর্থন করার পথ বেছে নিল? অথচ কানাডা নিজেই আমেরিকার অসততার অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিল। তারা জানেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরের কোনো স্থায়ী ভিত্তি নেই। তারা সহজেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। আগ্রাসন, অবরোধ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানোর পরিবর্তে তারা কেন এমন সমর্থন দিচ্ছে?

বাকাই বলেন, এটি কোনো কূটনীতি বা দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনা নয়। এটি কৌশলগত বিভ্রান্তি এবং ভীতি প্রদর্শনের কাছে নতি স্বীকারের বহিঃপ্রকাশ। এই সিদ্ধান্ত কানাডাকে আমেরিকার আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে পারবে না।