ডেস্ক রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড়! মার্কিন পরাশক্তিকে বাধ্য করে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তিতে সই করেছে ইরান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চূড়ান্ত হতে যাওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে অবসান ঘটছে দুই দেশের মধ্যকার ৩ মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের। আর একে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তেহরানের দীর্ঘদিনের ‘ঐতিহাসিক প্রতিরোধের এক বিশাল জয়’ হিসেবে দেখছে বিশ্ব। এই চুক্তির পেছনে রয়েছে তিন মাসের এক ভয়াবহ যুদ্ধ। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল জোট যৌথভাবে ইরানের ওপর শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।
প্রথম দফার হামলাতেই নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। লক্ষ্য ছিল একটাই—ইরানের শাসনব্যবস্থা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি গুঁড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু দমে যায়নি ইরান। মোজতবা আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে তীব্র পাল্টা আঘাত হানে তারা। সবচেয়ে বড় চালটি ইরান খেলে বৈশ্বিক জ্বালানি রুটে—পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালি। বিশ্বজুড়ে দেখা দেয় তীব্র তেল ও অর্থনৈতিক সংকট। ওয়াশিংটন বুঝতে পারে—সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানকে দমন করা অসম্ভব।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অবশেষে তেহরানের শর্ত মেনেই চুক্তিতে আসতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির ফলে ইরান কী কী পেল?
নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নৌ-অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মুক্ত হচ্ছে হরমুজ প্রণালি।
আটকে থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত: মার্কিন ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানের আড়াই হাজার কোটি ডলার অবিলম্বে অবমুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া দেশ পুনর্গঠনে আরও ৩০০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
মুক্ত তেল বাণিজ্য: ইরান এখন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বাধীনভাবে তেল বিক্রি করতে পারবে।
কিন্তু ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত বিজয় কোথায়? মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক জানাচ্ছে, তিন মাস ধরে শত চেষ্টার পরও ইরানের মাটির নিচে সুরক্ষিত ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছে। অর্থাৎ, মার্কিন-ইসরায়েলি জোট ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার মূল ভিত্তি স্পর্শও করতে পারেনি। ওয়াশিংটন এই চুক্তিকে নিজেদের মতো করে প্রচার করার চেষ্টা করলেও পশ্চিমা বিশ্লেষক লিসা দফতরি নিজেই স্বীকার করেছেন—ইরান আসলে কোনো মৌলিক সক্ষমতাই ত্যাগ করেনি, বরং এটিকে একটি ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
অত্যাধুনিক সামরিক জোটের যৌথ আক্রমণ সহ্য করেও ইরান প্রমাণ করে দিল—সঠিক কৌশল, দৃঢ়তা আর জাতীয় ঐক্য থাকলে যেকোনো পরাশক্তির চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে নিজেদের অধিকার আদায় করা সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরানকে বাদ দিয়ে যে কোনো সমীকরণ মেলানো অসম্ভব, এই চুক্তিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।