ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্থবির হয়ে আছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংঘাত থামানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও শিপ ট্র্যাকিং ডেটা থেকে জানা যায়, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নামমাত্র কয়েকটি জাহাজ পারাপার হয়েছে। ফলে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বৈশ্বিক জ্বালানি বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার যে আশা দেখা দিয়েছিল, তা আপাতত ফিকে হতে শুরু করেছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলার জানায়, যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। অথচ বুধবার (৮ এপ্রিল) মাত্র পাঁচটি এবং বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সাতটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরে অন্তত ৩২৫টি ট্যাঙ্কারসহ মোট ৬০০টিরও বেশি জাহাজ আটকা পড়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিমা ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার অভাবে জাহাজ মালিকরা এখনো এই পথ ব্যবহার করতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে সমুদ্রসীমায় মাইন পেতে রাখার আশঙ্কায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান এখন একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের চুক্তি মানছে না এবং তারা অত্যন্ত সম্মানহানিকর কাজ করছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাল্টা অভিযোগে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করছে না। তিনি লেবাননে ইসরাইলি হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বিশ্ব এখন দেখছে বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে কতটা আন্তরিক।
এই অনিশ্চয়তার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিশ্ববাজারে। যুদ্ধবিরতির খবরে তেলের দাম শুরুতে কিছুটা কমলেও, জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় তা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনক-এর সিইও সুলতান আহমেদ আল জাবের স্পষ্ট করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি আসলে এখনো উন্মুক্ত হয়নি, বরং ইরান একে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খবর : আলজাজিরা।