ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্ব রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে ওয়াশিংটন আর তেহরানের মধ্যে! একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, ইরান যুদ্ধ থামানোর চুক্তিতে আসতে বাধ্য। অন্যদিকে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে— টেবিলের ওপর ২৪ বিলিয়ন ডলার না রাখলে, কোনো চুক্তিতেই সই করবে না তারা! কিন্তু কী এই ২৪ বিলিয়ন ডলারের রহস্য? আর কেনই বা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ এখন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি?
ঘটনার সূত্রপাত ওমান ও কাতারের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া একটি গোপন খসড়া চুক্তি নিয়ে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-কে স্পষ্ট জানিয়েছেন— এই ২৪ বিলিয়ন ডলার কোনো মার্কিন অনুদান বা দয়া নয়। এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে অবৈধভাবে আটকে রাখা ইরানের নিজস্ব অর্থ। চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ইরান প্রথম ধাপেই ১২ বিলিয়ন ডলার নগদ ছাড় চায়। ইরান একে বলছে ট্রাম্পের জন্য একটা “আস্থা পরীক্ষা” বা Trust Test। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ভালো করেই জানে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ইরানের হাতে যাওয়া মানে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের লিভারেজ বা নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমে যাওয়া। আর ঠিক এই জায়গাতেই আলোচনা এখন সম্পূর্ণ থমকে গেছে, তৈরি হয়েছে এক ঐতিহাসিক ডেডলক!
টেবিলের এই লড়াই এখন আছড়ে পড়েছে সমুদ্রে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহকারী রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে ইরান এখন চরম আগ্রাসী। ইরানি নেতারা এই জলপথকে বর্ণনা করছেন “হযরত মুসা (আ.)-এর লাঠি” হিসেবে, যা দিয়ে তারা শত্রুর যেকোনো চাল পণ্ড করে দিতে পারে। ইরান ঘোষণা করেছে, তারা জোরপূর্বক কোনো ‘টোল’ বা শুল্ক আদায় করবে না ঠিকই, তবে এই আন্তর্জাতিক রুটের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিদেশি জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘মেনটেইন্যান্স ফি’ আদায় করার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যেই পারস্য উপসাগরে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার দাবি উত্তেজনাকে নিয়ে গেছে চরমে, যদিও পেন্টাগন সেখানে তাদের কড়া ব্লকেড বা অবরোধ বজায় রেখেছে।
লড়াইটা শুধু সমুদ্রেই শেষ নয়, এটি এখন অর্থনৈতিক যুদ্ধ। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ওমান ও আরব আমিরাতের মাধ্যমে এশিয়ায় ইরানের এলপিজি (LPG) পাচারের ছদ্মবেশী নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
আর এর জবাবে ইরান দিয়েছে এক হাড়হিম করা হুঁশিয়ারি! তেহরান জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি আবার নতুন করে কোনো সামরিক সংঘাতের দুঃসাহস দেখান, তবে যুক্তরাষ্ট্র একটি “ডার্ক করিডোর” বা অন্ধকার সুড়ঙ্গে প্রবেশ করবে। এই যুদ্ধ তখন আর শুধু পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; লোহিত সাগর থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরে থাকা প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি ইরানের মিসাইলের আওতায় চলে আসবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে সরাসরি বৈঠক করতে আগ্রহ দেখালেও, ইরান কিন্তু ২৪ বিলিয়ন ডলারের শর্তে অনড়। একদিকে কূটনীতি, অন্যদিকে সামরিক হুমকি— শেষ পর্যন্ত এই ক্ষমতার লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।