ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় সোমবার একদিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সোমবার বেলা ২টার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ৯০ সেন্ট বা ৬ শতাংশ কমে ১০৬ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ ডলার ৮৭ সেন্টে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের অবসানে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
এদিকে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।
বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সামরিক ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের শর্তের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়টি যুক্ত করেছে তেহরান।
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান।
এদিকে তেলের বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই রোববার বৈঠকে বসে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের সাত সদস্যদেশ। বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরেও তেল উৎপাদন না বাড়িয়ে বর্তমান পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে গত অক্টোবর থেকে তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ল।