ডেস্ক রিপোর্ট: থামল সেই জাদুকরী ড্রিবলিং। নিভে গেল সবুজ গালিচার সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি। ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে অবশেষে অবসরের ঘোষণা দিলেন ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয়—নেইমার জুনিয়র। বিদায়, ‘দ্য লাস্ট সাম্বা কিং’ ।
সান্তোসের অলিগলি থেকে যখন উঠে এসেছিলেন, বিশ্ব দেখেছিল এক নতুন ফুটবল রূপকথা। তার পায়ে বল মানেই ছিল ক্যানভাসে আঁকা নতুন কোনো শিল্প। বার্সেলোনায় গিয়ে গড়েছিলেন ঐতিহাসিক ‘MSN’ ত্রয়ী, জয় করেছিলেন ইউরোপের সর্বোচ্চ শিরোপা। তিনি শুধু গোল করতেন না, গোল করাটাকে একটা উৎসব বানিয়ে ফেলতেন।
কিন্তু নেইমারের ক্যারিয়ার মানে শুধু ট্রফি নয়, এক অবিরাম সংগ্রামের গল্পও। কড়া ট্যাকল, একের পর এক ভয়াবহ ইনজুরি বারবার তার গতি থামাতে চেয়েছে। তার পায়ের জাদু যতবার মুগ্ধ করেছে, তার ইনজুরির খবর ততবার ভক্তদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। অনেক ভাঙা স্বপ্ন আর অসম্পূর্ণতার বেদনা নিয়েও তিনি ছিলেন অদম্য।
বিতর্ক বা ইনজুরি তাকে থামিয়ে দিতে চাইলেও, পরিসংখ্যান বলছে—তিনি ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা। কিংবদন্তি পেলেকে টপকে সেলেসাওদের জার্সিতে হয়েছেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। হলুদ জার্সিতে তিনি যে আনন্দ, যে পাগলামি উপহার দিয়েছেন, তা ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ফুটবল ক্যানভাসে আর হয়তো মিলবে না তার জাদুকরী ছোঁয়া। সেই অদ্ভুত সেলিব্রেশন বা ডিফেন্ডারদের বোকা বানানোর সাম্বা নৃত্য আর দেখা যাবে না। কিন্তু নেইমার নামের এই শিল্পীর আঁকা স্মৃতিগুলো থেকে যাবে চিরকাল। ওব্রিগাদো, নেইমার। ফুটবল তোমাকে মিস করবে।