ইউ এস বেঙ্গল বাংলাদেশ রিপোর্ট: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে, সরকারের উচ্চপদস্থ নেতা নেত্রী থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে সকল নেতা নেত্রীদের কণ্ঠে ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আনুগত্যের সুর। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেখা যায় ভিন্ন সুর। শুধু পতনের পর নয়, বরং পতনের পর জানা যায়, কেউ ক্ষমতা দখলের জন্য, কেউ নেতৃত্বের পরিবর্তনের জন্য, কেউ অর্থ আত্মসাতের জন্য আবার কেউ স্বজন প্রীতির জন্য দলের ভেতরে গড়ে উঠেছিল নীরব ষড়যন্ত্র। দলের ভেতরে এমন কিছু নেতা-নেত্রী ছিল যারা দলীয়ভাবে একাত্বতা প্রকাশ করলেও ভেতরে ভেতরে তারা আলাদা লক্ষ্য অর্জনের জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো।
বিভিন্ন বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলন ও পরবর্তী এক দফা দাবি কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রধান কারণ নয়। বিশ্লেষকদের মতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন শুরু হয়েছিল বহু আগে থেকেই। কারণ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গের নেতা-নেত্রীরা তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বহু আগে থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত এমন পাঁচজন নেতা-নেত্রী তাঁদের ব্যক্তিগত সার্থক প্রভাব বিস্তারের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নীতি বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করেছিল। এ সকল নেতা-নেত্রীরা আওয়ামী লীগ সরকারের আড়ালে,এমনকি লোকচক্ষুর আড়ালে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বাইরে গোপন বৈঠক করেছেন। এছাড়াও নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রশাসনিক পদে নিজের স্বজনপ্রীতি দেখিয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার প্রচেষ্টা চালায়। মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের নীতি ও কার্যক্রমকে বিকৃতভাবে প্রচার করে সাধারণ জনগণকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আওয়ামী লীগ সরকারের অভ্যন্তরে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার সত্বেও সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও তারা চেয়েছিল অধিক ব্যক্তিগত সুবিধা ও ক্ষমতা অর্জন।
বাংলাদেশে ৫ই আগস্টের পর যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত অনেক নেতা নেত্রী এমনকি সমর্থকদের দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে সেখানে এই সকল বিশ্বাসঘাতকরা, ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি প্রকল্পের দায়িত্ব, আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে আর্থিক স্বার্থ নিশ্চিত করতে পেরেছে।
এই সকল মীরজাফর বিশ্বাসঘাতক দের মুখোশ খুলছে হাসিনা পতনের পর। ভবিষ্যতে হয়তো এই সকল মীরজাফরা নতুন কোন বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস রচনা করবে।
প্রিন্ট করুন



















Discussion about this post