ইউ এস বেঙ্গল বাংলাদেশ রিপোর্ট: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব এখন এক অনিবার্য সংকটের সম্মুখীন। দলের সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ। দলটিকে হিসেবের বাইরে রেখেই চলছে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি।
আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতারা সবাই পলাতক। গণহত্যার অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে তাদের বিচার চলছে। এরই মধ্যে জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা গণহত্যার মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ নভেম্বর এবং প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই রায়টি শেখ হাসিনা এবং তার দলের বিপক্ষেই যাবে।
এরকম এক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া দলটি জানে, এখন যদি তারা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখায় বা কোনো কিছুই না করতে পারে, তাহলে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে। তাই শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে আগামী ১৩ নভেম্বর সারা দেশে লক ডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা আশা করছেন, এই আন্দোলন সফল করতে তারা ঢাকায় এক লাখ নেতাকর্মীকে নামাতে পারবেন!
কিন্তু প্রশ্ন হলো, আওয়ামী লীগ কি এই আন্দোলন সফল করতে পারবে? যেখানে দলটির বেশিরভাগ নেতাকর্মীই হয় আত্মগোপনে নয়তো জেলে আছেন, দল কি আদৌ এক লাখ লোক রাস্তায় নামাতে পারবে?
ঐ দিনটিকে ঘিরে লীগের কার্যক্রম সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা না গেলেও, ঢাকায় লাখো লোকের সমাগম ঘটিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি, লকডাউন কার্যকর, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা বা যানবাহনে আগুন দেয়ার মতো নানা অপতৎপরতার তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকির তথ্য না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এসব তথ্যকে গুরুত্ব দিয়েই দেখছে তারা। সে অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি।
একটি জাতীয় দৈনিক বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হচ্ছে, এই নাশকতার পরিকল্পনা সমন্বয় করা হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে। এজন্য দলীয় আবেগ কাজে লাগিয়ে সারাদেশ থেকে সহিংসতায় অভ্যস্ত কর্মীদের বাছাই করা হয়েছে, কিছু কিছু এলাকায় তাদেরকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৩ নভেম্বরের আগের রাত থেকেই রাজধানী ও আশেপাশে বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এছাড়া গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরকে বিবেচনা করা হচ্ছে বিশৃঙ্খলার কেন্দ্র হিসেবে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অবশ্য লীগের এই হুমকিতে তেমন আতংকিত হচ্ছে না। তাদের মতে গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে এরকম কয়েকটি অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তারাও জানে, রায়ের তারিখকে কেন্দ্র করে নতুন ভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির একটা চেষ্টা হতে পারে। তাই সেনাবাহিনীকে আপাতত মাঠে রাখার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে তারা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সহিংসতা ঘটাতে ব্যবহার হতে পারে অবৈধ অস্ত্র। সম্প্রতি ঢাকায় একটি অস্ত্রের চালান আটক করেছে সেনাবাহিনী। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরো কিছু অস্ত্রের চালান দেশে ঢুকতে পারে। এছাড়া আগের সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স গুলোর মধ্যে অনেকগুলোই এখনো জমা হয়নি। এসব অস্ত্র ব্যবহার করেও সহিংসতা হতে পারে৷
যেসব আওয়ামী লীগ নেতা এই আন্দোলন সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জাহাঙ্গীর আলম। এই নেতা গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে উত্তরা পর্যন্ত সড়ক অবরোধের দায়িত্ব পেয়েছেন। যাত্রাবাড়িতে অবরোধের দায়িত্ব লিয়াকত শিকদারের। ঢাকার ভেতরে অগ্নিসংযোগ ও অরাজকতা সৃষ্টির দায়িত্বে থাকবেন সম্রাট। ১২ নভেম্বর সন্ধ্যার পর ছোট ছোট ঝটিকা মিছিল ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনাও আছে ।
তবে ৮ নভেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও আগাম তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তৎপরতা চলমান আছে। অবৈধ কর্মকাণ্ড, নাশকতা বা সংঘর্ষের যেকোনো চেষ্টা হলে দ্রুততার সাথে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আওয়ামী লীগ যেমনটা প্রত্যাশা করছে, তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যেখানে ছোটখাটো ঝটিকা মিছিল বের করলেও লীগের নেতা কর্মীরা তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের শিকার হচ্ছেন, সেখানে হুট করে এক লাখ নেতাকর্মী মাঠে নামানোর দাবি একটু অবিশ্বাস্যই শোনায়। লীগের আমলে যেমন বিএনপির আন্দোলন একসময় মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, আওয়ামী লীগের অবস্থা তো সে তুলনায় আরও বেশি খারাপ। বিএনপির পাশে তবু দেশের মানুষ ছিল, আওয়ামী লীগের পাশে তো কোনও পাগলও দাঁড়াবে না। খুব বেশি হলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ কিছু সাধারণ মানুষের ক্ষতির কারন হবে। এর বেশি কিছু করার সামর্থ্য এই মুহূর্তে দলটির নেই।