ইউ এস বেঙ্গল বাংলাদেশ রিপোর্ট: বাংলাদেশে দিনের আলোয় ঢাকার রাস্তায় বের হলেই চোখে পড়ে লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। যাত্রীকল্যাণ সমিতির মতে, সারা দেশে চলছে প্রায় ৬০ লাখ অটোরিকশা, যার মধ্যে ১২ থেকে ১৫ লাখই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে খোদ রাজধানীতে। কিন্তু এই যানজট আর বিশৃঙ্খলার চেয়েও বড় একটি সংকট লুকিয়ে আছে রাতের অন্ধকারে। দিনের বেলায় রাস্তা দখল করা এই রিকশাগুলো রাতেই হয়ে ওঠে আমাদের জাতীয় গ্রিডের জন্য এক নীরব ঘাতক।
রাত নামলেই শুরু হয় আসল খেলা। সারাদিন চলা প্রতিটি রিকশায় থাকে ৪ থেকে ৬টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি। এগুলো ফুল চার্জ হতে সময় লাগে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা। আর প্রতিটি রিকশার জন্য খরচ হয় ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ। সিপিডির তথ্য বলছে, প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে এই অটোরিকশাগুলো। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে এখানে। যার বেশিরভাগই চুরি করা। আর এই চুরির কারণে সরকার বছরে রাজস্ব হারাচ্ছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা!
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে বৈধ চার্জিং স্টেশন হাতেগোনা, কিন্তু অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি! তেজগাঁও, মিরপুর, হাজারীবাগ থেকে শুরু করে
কামরাঙ্গীরচর সবখানে একই চিত্র।
ঢাকার দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে ৫০০ থেকে ৭০০ মেগাওয়াট যদি শুধু অটোরিকশাই খেয়ে ফেলে, তবে সামনের গরমে ভয়াবহ লোডশেডিং ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় থাকবে না।
এই ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো এখন শহরের জন্য ‘ক্যান্সারে’ পরিণত হয়েছে, যা এখন শেষ ধাপে আছে। এখনই কারখানা, অবৈধ আমদানি আর চার্জিং স্টেশন বন্ধ না করলে ঢাকাকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসি বলছে, তারা বাধ্য হয়ে কিছু বৈধ লাইন দিচ্ছে যাতে চুরি কমে। পাশাপাশি অবৈধ হুকিং বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে, বদলানো হচ্ছে পুরোনো ক্যাবল। অন্যদিকে বিআরটিএ জানিয়েছে, তারা বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি চূড়ান্ত করেছে। কিন্তু প্রতিদিন যেখানে ব্যাঙের ছাতার মতো হাজার হাজার রিকশা তৈরি হচ্ছে, সেখানে এই পদক্ষেপগুলো কি আদৌ যথেষ্ট?
৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে যে কেউ একটি অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে। একদিকে যানজটে স্থবির হচ্ছে শহর, অন্যদিকে রাতের আঁধারে চুরি হচ্ছে মহামূল্যবান বিদ্যুৎ। জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করে গুটিকয়েক মানুষের এই অবৈধ ব্যবসা আর কতদিন চলবে? একটি টেকসই নীতিমালা এবং তার কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এই বিদ্যুৎ চুরি ও সড়ক দখলের দুষ্টচক্র থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। সময় ফুরিয়ে আসছে, সিদ্ধান্ত নিতে হবে এখনই।