Print Date & Time : 31 August 2025 Sunday 9:07 pm

পুতিন যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন না, অভিযোগ জেলেনস্কির

ডেস্ক রিপোর্ট: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আলাস্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শান্তি আলোচনা সামনে রেখে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন না। বরং উল্টো ইউক্রেনে ‘নতুন আক্রমণাত্মক অভিযানের’ জন্য সৈন্যদের প্রস্তুত করছেন। সোমবার (১১ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি এ দাবি করেন। খবর আলজাজিরার

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা ও সামরিক কমান্ডারদের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ‘পুতিন আগামী শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে ‘একটি ব্যক্তিগত বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আগের মতোই চালিয়ে যাবেন তিনি। এছাড়া যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য রাশিয়ানরা কোনো ধরনে বার্তা পেয়েছে বলে কোনো ইঙ্গিত নেই।’

ইউক্রেনের দক্ষিণ ফ্রন্ট-লাইন সেক্টরের সামরিক মুখপাত্র ভ্লাদিস্লাভ ভোলোশিন সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, রাশিয়া আরও আক্রমণের জন্য জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে কিছু সামরিক ইউনিট স্থানান্তর করছে।

যুদ্ধ বন্ধের জন্য রাশিয়ার দখল করা জমি ইউক্রেনকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় জেলোনেস্কি বলেন, রাশিয়াকে শান্তির জন্য ছাড় দিলেও তারা যুদ্ধ বন্ধ করবে না। রাশিয়াকে হত্যা বন্ধের জন্য আহ্বান জানালেও- তা বন্ধ করেনি। তাই রাশিয়াকে কোনো ধরনো সুবিধা বা পুরস্কার দেওয়া উচিত হবে না।

গতকাল সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে কিছু জমি বিনিময় হবে। এটি রাশিয়া ও ইউক্রেনের জন্য ভালো। আলোচনায় আমি পুতিনকে বলবো, তোমাকে এই যুদ্ধ শেষ করতে হবে। আর পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের ‘সম্ভবত প্রথম দুই মিনিটেই’ জানতে পারবো শান্তি আলোচনা অগ্রগতি সম্ভব কি-না।’ আর পুতিনের সঙ্গে ভবিষ্যতের বৈঠকে জেলেনস্কি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন বলে তিনি আরও জানান।

এদিকে মঙ্গলবার ‘ইউক্রেনের নিজস্ব ভাগ্য বেছে নেওয়ার অন্তর্নিহিত অধিকারের’ ওপর জোর দিয়ে ইউরোপের ২৬ সরকার প্রধান এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। যার মধ্যে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতিগুলি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া আন্তর্জাতিক সীমানা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিবর্তন করা উচিত নয়। ইউক্রেন এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার জন্য একটি কূটনৈতিক সমাধান অবশ্যই প্রয়োজন।’ এই বিবৃতিতে ইউরোপের দেশে হাঙ্গেরি অংশ নেয়নি।

গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও বলেছেন, শান্তি চুক্তিতে কিয়েভকে জড়িত থাকতে হবে এবং তাদের ওপর কোনো অতিরিক্ত কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

ইউক্রেনের সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী মার্কিনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিউ) একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলেছে, মস্কো রাশিয়ান জনগণকে ‘ইউক্রেনে পূর্ণ বিজয় ছাড়া কোনও মীমাংসা’ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করছে বলে মনে হচ্ছে না।

আলাস্কায় শীর্ষ সম্মেলনের পর ওয়াশিংটন ইউক্রেনের প্রতি প্রতিকূল শান্তির শর্ত আরোপ করতে পারে। এমন আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ার কারণে ইউরোপীয় নেতারা এবং জেলেনস্কি- বৈঠকের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন।