Print Date & Time : 8 June 2026 Monday 12:40 am

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার কড়া বার্তা

ডেস্ক রিপোর্ট: উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি কোনোভাবেই আলোচনার টেবিলে আনা যাবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফরের ঠিক আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রচেষ্টাকে সেকেলে কল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

রোববার (৭ জুন) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অবস্থান একেবারেই আলোচনার বিষয় নয়। তিনি আরও জানান, উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক মর্যাদার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি বা চাপ সহ্য করবে না।

গত মাসে বেইজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল, ওয়াশিংটন ও বেইজিং কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার অভিন্ন লক্ষ্যে একমত হয়েছে। সেই দাবিকেও পুরোপুরি মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন কিম ইয়ো জং। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এখনও বাস্তবতাবিবর্জিত পুরনো স্বপ্ন থেকে বেরোতে পারেননি।

তিনি আরো বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিকে অস্বীকার করা বা চ্যালেঞ্জ করার কোনো আইনি ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রের নেই। দেশের নেতার নির্দেশনায় আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার নীতি একটি অপরিবর্তনীয় পথ, যা চলতেই থাকবে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া বহুদিন ধরে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অধিকার দাবি করে আসছে। ২০২৩ সালে তারা সংবিধানেও নিজেদেরকে পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এদিকে আগামী দুই দিনের সফরে উত্তর কোরিয়ায় যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রায় সাত বছর পর এটি হবে তার প্রথম পিয়ংইয়ং সফর। উত্তর কোরিয়ার জন্য চীন অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থক। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে বেইজিংয়ের এই সমর্থন পিয়ংইয়ংয়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহেই কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সূচকীয় হারে সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী পাঁচ বছরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন আড়াই গুণ বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং মস্কোর সমর্থন পাওয়ার পর উত্তর কোরিয়া এখন আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে সেনা পাঠানোর বিনিময়ে তারা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

কিম ইয়ো জংয়ের এই কড়া বিবৃতি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমঝোতায় যাওয়ার মতো অবস্থায় এখনই নেই উত্তর কোরিয়া। তারা তাদের পারমাণবিক শক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখছে।

খবর : এএফপি