ডেস্ক রিপোর্ট: আফগানিস্তানে তালেবান সরকার কর্তৃক মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন বিতর্কিত ইসলামি বক্তা ড. জাকির নায়েক। ভারত, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান—তিন দেশ থেকেই তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে জাকির নায়েক দাবি করেন, তালেবান সরকার আফগান মেয়েদের শিক্ষা চিরতরে বন্ধ করেনি; বরং নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নারী শিক্ষকের অভাব থাকায় প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশটিতে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েরা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে তাঁর এই যুক্তিকে ভিত্তিহীন ও হতাশাজনক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন সমালোচকরা।নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই জাকির নায়েকের বক্তব্যকে চরম হতাশাজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, নারী শিক্ষকের অভাবের অজুহাত দেখিয়ে মেয়েদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘরে বন্দি করে রাখার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। একইভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নির্বাসিত আফগান এমপি মরিয়ম সোলাইমানখিল।
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, তালেবান নিজেরাই যেখানে নারী শিক্ষকদের কাজ করা নিষিদ্ধ করেছে, সেখানে নারী শিক্ষকের অভাব দেখিয়ে মেয়েদের আটকে রাখা এবং তাদের অপেক্ষায় থাকার যুক্তি সম্পূর্ণ হাস্যকর। ভারতের ইতিহাসবিদ রুচিকা শর্মা জাকির নায়েকের এই বক্তব্যকে সরাসরি একটি বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমর্থন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তোপের মুখে পড়ে ২০১৬ সালে দেশ ছাড়েন জাকির নায়েক এবং ২০১৭ সাল থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটির প্রায় ২৬ লাখ কিশোরী মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত রয়েছে। বাস্তব চিত্র যেখানে লাখ লাখ আফগান কিশোরীর অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা বলছে, সেখানে জাকির নায়েকের এই বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক উসকে দিল।