Print Date & Time : 6 November 2026 Friday 12:32 am

ট্রাম্পের দলে ভাঙন, নতুন জোট গড়ায় মন ভ্যান্সের

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট ভোটারদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গড়ার চেষ্টা করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) ফক্স নিউজ ডিজিটালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নেন ভ্যান্স। এ সময় পররাষ্ট্রনীতি এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রশাসনের সবাইকে একই ধরনের বার্তা দেওয়ার বিষয়ে সমন্বয় করাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। তবে আরেকটি সূত্র বৈঠকটিকে নিয়মিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সভা বলে বর্ণনা করেছে।

বুধবার নিজের এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে তা বলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি মনে করেন, এই যুদ্ধের বিনিময়ে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো সার্থক ছিল, তাহলে তিনি সেই যুক্তি তুলে ধরতে পারেন। বলুন, এই মূল্য দেওয়া যৌক্তিক ছিল। একমত হোন বা দ্বিমত পোষণ করুন, অন্তত সেটি হবে সৎ আলোচনা।’

ভ্যান্সের ভাষায়, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা সবাই জানেন। এখন সামনে কীভাবে এগোতে হবে, সে বিষয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা শুরু করতে হবে সেখান থেকেই।’

পোস্টে ভ্যান্স জানান, তার পরিচিত একজন রাজনৈতিক জরিপকারী এবং রাজনীতির সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের একজন রিপাবলিকানদের ভোটারদের কাছে ফিরিয়ে আনতে চারটি করণীয় তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, এই চারটি বিষয়ই ভ্যান্সের ‘নিউ রাইট’ বা নতুন ডানপন্থি জোটের মূল বার্তা। এই জোট বলতে এমন একদল রিপাবলিকানকে বোঝানো হচ্ছে, যারা ট্রাম্পের মূল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের নীতির সঙ্গে একমত। তাদের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সংঘাতে জড়ানো উচিত নয়, দেশটিকে আমেরিকান পরিবারগুলোর বসবাস ও সন্তান লালন-পালনের জন্য সাশ্রয়ী করে তুলতে হবে এবং সীমান্ত বন্ধ করতে হবে।

ওই কর্মকর্তার মতে, এই ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প ইসরাইলের সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছেন।

মার্কিন ডানপন্থিদের একটি অংশের কাছে ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের প্রভাব এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তবে প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, ভ্যান্সের এই বার্তার অর্থ ট্রাম্পের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার পর ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়ে তার থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। ভ্যান্সের অবস্থান তেমন নয়। বরং ট্রাম্পকে সমর্থন করেন, কিন্তু তার পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে একমত নন কিংবা নিজেদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মনে করেন, এমন রিপাবলিকানদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে চান তিনি।

ওই কর্মকর্তার ভাষায়, ভ্যান্সের বার্তা হলো, ‘ভ্যান্সই আমাদের নেতা।’

বৈঠক কিংবা নির্বাচন-পরবর্তী ভ্যান্সের বক্তব্য সম্পর্কে ফক্স নিউজ ডিজিটালের মন্তব্য চাওয়ার পরও হোয়াইট হাউস কোনো জবাব দেয়নি।

গত দুই বছর ধরে ভ্যান্স ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের পছন্দের বক্তব্য থেকে খুব বেশি সরে যাননি। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা প্রশাসনের অল্প কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে তিনি অন্যতম। যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও ইরান সংঘাত নিয়ে ভ্যান্সের নিজের বক্তব্য ও অবস্থানে ভিন্নতা দেখা গেছে।

চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পও স্বীকার করেছিলেন, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে শুরু থেকেই ভ্যান্স হয়তো খুব একটা উৎসাহী ছিলেন না।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ভ্যান্সকে। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নামও আলোচনায় রয়েছে।