ডেস্ক রিপোর্ট: সাধারণত আমরা মনে করি, মদপান করলেই ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত হন মানুষ। এ ধারণা ভুল। ওবেসিটির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ফ্যাটি লিভারের। বরং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের পেছনে দায়ী সেডেন্টারি লাইফস্টাইল।
অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় না থাকাই বাড়িয়ে তোলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। আবার অনেক সময়ে জিনগত কারণেও ফ্যাটি লিভার হয়ে থাকে। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, আপনি যত বেশি কায়িক পরিশ্রম করবেন, ততই ওবেসিটি, ফ্যাটি লিভার ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি এড়াতে পারবেন।
অনেক সময়ে পরীক্ষা করানোর আগে বোঝা যায় না যে, লিভারে মেদ জমেছে। তাই অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করলে সাবধান থাকা জরুরি। তবে ফ্যাটি লিভার সম্পূর্ণরূপে সারিয়ে তোলা সম্ভব। তাও কোনো রকম ওষুধ না খেয়ে। শুধু জোর দিতে হবে তিনটি বিষয়ের ওপর।
ফ্যাটি লিভার সারিয়ে তুলতে যা করবেন—
১. স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলের কোনো বিকল্প নেই। সময়মতো খাবার খাওয়া, সঠিক সময়ে ঘুমানো এবং সঠিক খাবার বেছে নেওয়া—এই ছোট ছোট বিষয়ের ওপর জোর দিলেই সুস্থ থাকা যায়। তার সঙ্গে প্রতিদিনের শরীরচর্চা করা ভীষণ জরুরি। আর এক্সারসাইজের মাধ্যমে ঘাম না ঝরালে ফ্যাটি লিভারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
২. ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পেতে চাইলে তেল খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে রান্নায় তেলের ব্যবহার কমাতে হবে। সাদা তেল একেবারে এড়িয়ে সরষের তেল ও অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া রান্নায় ব্যবহার করুন ঘি। তেলের বদলে ঘি খাওয়া স্বাস্থ্যকর। এতে ফ্যাটি অ্যাসিড, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে পরিমাণের দিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে।
৩. আপনার লিভারের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে আলাদা করে ডিটক্স ওয়াটার খাওয়ার দরকার পড়ে না। লিভারের কাজই হলো— শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেওয়া। লিভারের এ কাজকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে গ্লুটাথিয়ন নামক এক প্রকার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। গ্লুটাথিয়ন বেরিজাতীয় ফল, শাকসবজি, রাঙা আলু, টমেটো, গাজর ও বেলপেপারের মতো রঙিন সবজিতে অনায়াসে পেয়ে যাবেন। তাই ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফল রাখুন। এতেই ফ্যাটি লিভারের হাত থেকে মুক্তি পাবেন।
প্রিন্ট করুন




















Discussion about this post