ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ নথিপত্রে।
‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায় অবমুক্ত করা এই সরকারি দলিলে দেখা গেছে, এপস্টেইন দীর্ঘস্থায়ী হরমোন ঘাটতি বা লো-টেস্টোস্টেরন সমস্যায় ভুগছিলেন।
নথিপত্র বলছে, বেশ কয়েক বছর ধরে তার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ছিল ১২৫ থেকে ১৪২ ন্যানোগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার, যা স্বাভাবিক মাত্রার (৩০০ ন্যানোগ্রাম) চেয়ে অনেক কম। এপস্টেইন নিজেও তার চিকিৎসকদের কাছে পাঠানো ইমেইলে স্বীকার করেছিলেন যে প্রায় এক দশক ধরে তার এই শারীরিক সমস্যা অব্যাহত ছিল।
প্রকাশিত নথিতে আরও জানা গেছে, এপস্টেইন যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধ খুঁজতেন এবং একাধিক যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ২০১৬ সালের একটি ইমেইলে তিনি নিউইয়র্কের একজন চিকিৎসককে জানিয়েছিলেন যে তার শরীরে পরজীবী এবং যৌনবাহিত সংক্রমণের উপস্থিতি ধরা পড়েছে এবং এর জন্য তিনি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এছাড়া মেডিকেল রেকর্ডে তার গনোরিয়া সংক্রমণের তথ্যও নথিবদ্ধ রয়েছে। হরমোনজনিত সমস্যার জন্য চিকিৎসকরা তাকে বিভিন্ন থেরাপির পরামর্শ দিলেও ওজন বৃদ্ধি ও শরীর ফুলে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে তিনি ২০১৬ সালে সেই চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
এই নথিপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে যে এপস্টেইন নিজের শুক্রাণু সংরক্ষণের উপায় খুঁজছিলেন এবং নিয়মিত যৌনবর্ধক পণ্যের প্রচারণামূলক ইমেইল গ্রহণ করতেন। ২০১৯ সালের আগস্টে যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় কারাগারে আত্মহত্যা করেন এই বিতর্কিত ব্যবসায়ী।
সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে প্রকাশিত লাখ লাখ পৃষ্ঠার এই নথিতে এপস্টাইনের ব্যক্তিগত ইমেইল, ছবি, ভিডিও এবং কয়েক দশকের তদন্তের বিভিন্ন গোপন তথ্য জনসমক্ষে আনা হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত জীবনের অন্ধকার দিকগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
খবর : এনডিটিভি।
প্রিন্ট করুন



















Discussion about this post