ডেস্ক রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যে বেজে উঠেছে পুরোদস্তুর যুদ্ধের দামামা! মাত্র এক রাতে ইরানের ভেতরে অন্তত ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে রণতরী, ড্রোন এবং যুদ্ধবিমান থেকে একযোগে চালানো হয়েছে এই অপারেশন। কিন্তু হঠাৎ কেন এই পরিস্থিতি? কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?
ঘটনার সূত্রপাত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট—’হরমুজ প্রণালী’তে। আন্তর্জাতিক জলসীমা ব্যবহারকারী সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ, ‘M/V GFS Galaxy’-এর ওপর আচমকা হামলা চালায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা IRGC। হামলায় জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং একজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ হন। এর পরপরই ইরান ঘোষণা দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং কোনো আন্তর্জাতিক জাহাজ এখানে চলতে দেওয়া হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সরাসরি বাতিল ঘোষণা করে ইরান।
ইরানের এই পদক্ষেপের জবাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা আঘাত হানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। এটি ছিল চলতি সপ্তাহে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় এবং সবচেয়ে বড় দফার হামলা। মার্কিন সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, নিখুঁত নিশানা করতে সক্ষম গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌবাহিনীর সক্ষমতা, গোলাবারুদের বিশাল মজুত এবং উপকূলীয় নজরদারি চৌকিগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের বুশেহর, আসালুয়েহ এবং দায়্যেরের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহরগুলোতে এই হামলা চালানো হয়। সব মিলিয়ে গত তিন রাতে ইরানের ৩০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী।
তবে এই মার্কিন হামলার পর চুপ করে বসে নেই ইরানও। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এই হামলার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই মার্কিন বাহিনীকে সাহায্য করার অভিযোগে জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং ওমানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পাল্টা হামলা শুরু করেছে তেহরান। কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। ফলে যুদ্ধ এখন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়ছে পুরো গলফ অঞ্চলে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।