Print Date & Time : 1 June 2026 Monday 10:11 pm

ইরানের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের গুঞ্জন, যা বলল তেহরান

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছে। তবে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের কথা অস্বীকার করেছে তেহরান। এমন খবরকে মিডিয়া গেইম বলে আখ্যাও দিয়েছে। জানিয়েছে— ইরান ঐক্য ও সংহতির পথ থেকে পিছিয়ে আসবে না।

রোববার (৩১ মে) দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান বলে দাবি করেছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

মূলত, কয়েক মাস ধরেই ইরানের সরকার ও সামরিক-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিভেদের দাবি করে আসছে মার্কিন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা। দাবির পক্ষে বিভিন্ন খবরও প্রচার করছে বিভিন্ন পশ্চিমা গণমাধ্যম।

এর আগে, ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল, ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) ধীরে ধীরে প্রেসিডেন্টের বহু ক্ষমতা সীমিত করে দিয়েছে এবং কার্যত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।

এর ফলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসনে।

এবার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে একই গণমাধ্যম দাবি করছে, অবিলম্বে পদত্যাগের অনুমতি চেয়ে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতাবা খামেনির কাছে চিঠি দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠিতে পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে কার্যত প্রেসিডেন্ট এবং সরকারকে বাইরে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট শূন্যতার সুযোগে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে আইআরজিসি’র কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং নিজের আইনগত দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

পদত্যাগপত্রের বিষয়টি সত্যি হলে তা ইরানের ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তরে গভীর ও নজিরবিহীন বিভেদের ইঙ্গিত।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবায়ি বলেন, কিছু বিদেশি গণমাধ্যমের ‘মিডিয়া গেইম-এর ধারাবাহিকতা এমন খবর। দেশের অভ্যন্তরে বিভক্তি নিয়ে চলমান জল্পনাকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। বলেন, ইরানের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার চেষ্টাকারীদের নিজেদের ইচ্ছা নিয়ে কবরে যেতে হবে।

পেজেশকিয়ান কখনোই ইরানের জনগণের সেবা থেকে সরে দাঁড়াবেন না— এমন মন্তব্যও করেন মেহদি।

খবর : আনাদোলু ও জেরুজালেম পোস্ট