Print Date & Time : 27 March 2026 Friday 3:19 am

ইরানিদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিল অস্ট্রেলিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানি পর্যটকদের অস্ট্রেলিয়া প্রবেশে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দেশটি দাবি করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার কারণে ইরানের পাসপোর্টধারীরা তাদের স্বল্পমেয়াদি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিজ দেশে ফিরতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হতে পারেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে আগত দর্শনার্থীদের ওপর এই সীমাবদ্ধতা ছয় মাসের জন্য প্রযোজ্য হবে। সিদ্ধান্তটি চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইরানে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ কিছু স্বল্পমেয়াদি ভিসাধারীকে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রস্থানে অক্ষম বা অনিচ্ছুক করার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।’

নিষেধাজ্ঞাটি শুধু ইরানির নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য, যারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে আছেন। এমনকি যদি তাদের পর্যটন বা কাজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ভিসা থাকে তবুও তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন।

এই বিধিনিষেধের কিছু ব্যতিক্রমও আছে। যেমন- ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানির নাগরিক, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় যাত্রারত ব্যক্তি, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের স্বামী/স্ত্রী বা সন্তান এবং স্থায়ী ভিসাধারীরা এর আওতার বাইরে থাকবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, কারা স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারবে তা সরকারের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। এছাড়া যারা ছুটিতে আসে সেটির হিসাব এলোমেলো ফলাফলের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

বার্ক আরও বলেছেন, সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে, যেন অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থা সুবিন্যস্ত, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই থাকে।

সিডনিতে অবস্থিত অ্যাসাইলাম সিকার্স সেন্টার সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, ইরানিদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা একটি ‘লজ্জাজনক নতুন আইন।’

এ মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে আহ্বান করেছিলেন যে, ইরানের নারী ফুটবল দলকে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় দেওয়া হোক। যেহেতু খেলোয়াড়রা কুইন্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ-২০২৬ ম্যাচে তাদের জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ায় নিজ দেশে প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে।

অ্যালবানিজ পরে সাংবাদিকদের বলেছেন যে, দলের পাঁচ সদস্য সহায়তা চেয়েছিলেন এবং অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ দ্বারা তারা নিরাপদভাবে অবস্থান করেছেন।

মোট সাতজন খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাকে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যদিও পরে পাঁচ খেলোয়াড় তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে দেশে ফিরে গেছেন।

২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৯০ সহস্রাধিক অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা ইরানে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং একটি বড় সংখ্যক ইরানি অভিবাসী সম্প্রদায় সিডনি ও মেলবোর্নের মতো বড় শহরে রয়েছে।

খবর : আল জাজিরা