ডেস্ক রিপোর্ট: ইতিহাসে এই প্রথমবার! কয়েক দশকের পুরনো নীতি ভেঙে, শান্তিকালীন সময়েই নিজেদের পারমাণবিক বোমা সরাসরি মিসাইলে লোড করে রাখল ভারত! আন্তর্জাতিক অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা ‘সিপ্রি’ (SIPRI)-র ২০২৬ সালের সর্বশেষ রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারত তার পরমাণু ভাণ্ডার থেকে প্রথমবারের মতো ১২টি ওয়ারহেড বা পারমাণবিক বোমা ‘কার্যক্ষমভাবে মোতায়েন’ করেছে!
এতদিন পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক নীতি ছিল—তারা শান্তিতে বিশ্বাসী। তাই পরমাণু বোমা এবং তা ছুড়ে মারার মিসাইল বা সিস্টেম আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা হতো। কিন্তু সিপ্রি বলছে, এবার সেই নিয়মে বড় বিচ্যুতি ঘটেছে। নতুন এই ১২টি পারমাণবিক বোমা কেবল মজুতই নয়, বরং সরাসরি ডেলিভারি সিস্টেম বা সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে ফিট করে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নতুন পারমাণবিক সাবমেরিন এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোতে এগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে হাই-অ্যালার্টে। অর্থাৎ, প্রয়োজনে চোখের পলকে এগুলো ফায়ার করা সম্ভব!
সিপ্রি-র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯০টি! যা আগের বছরের চেয়েও বেশি। জল, স্থল আর আকাশ—এই তিন পথ থেকেই পরমাণু হামলা চালানোর যে ক্ষমতা, যাকে বলা হয় ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’, ভারত এখন তা আরও শক্তিশালী করছে। ক্যানিস্টারে মিসাইল সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে সাবমেরিনের নিয়মিত টহলই প্রমাণ করে যে ভারত এখন শান্তিকালেও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য শতভাগ প্রস্তুত।
তবে কি ভারত তার পরমাণু নীতি বদলে ফেলল? এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত এখনও তার ঐতিহাসিক ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (No First Use) নীতিতেই অটল রয়েছে। অর্থাৎ, ভারত নিজে থেকে আগে কোনো দেশের ওপর পরমাণু হামলা চালাবে না। কিন্তু, ভারতের ওপর যদি কোনো দেশ আক্রমণ করে, তবে তার জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। দিল্লির স্পষ্ট বার্তা—এই সামরিক প্রস্তুতি কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্য নয়, বরং সম্ভাব্য শত্রুদের হাত থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখার এক চূড়ান্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা।