ডেস্ক রিপোর্ট: চার বছর পেরিয়ে গেলেও থামার কোনো লক্ষণ নেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের! উল্টো জুনের শেষ সপ্তাহে এসে সংঘাত রূপ নিয়েছে আরও ভয়াবহ আকারে। একদিকে শান্তি প্রস্তাব নাকচ করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন, অন্যদিকে মস্কোর ভেতরে ঢুকে বড়সড় আঘাত হেনেছে ইউক্রেন।
সম্প্রতি ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্রেমলিন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এক সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— যুদ্ধক্ষেত্রের ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনীয় বাহিনী চরম চাপে রয়েছে বলেই তারা এখন শান্তি চাইছে। রাশিয়া তার লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ থামাবে না।
তবে পুতিনের এই হুমকির মুখে দমে যায়নি কিয়েভ। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, তাদের ড্রোন সফলভাবে আঘাত হেনেছে মস্কো অঞ্চলে অবস্থিত রাশিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘দুবনা স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সেন্টারে’। সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও যুদ্ধ সমন্বয়ের কাজে ব্যবহার করা হতো।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে দু-পক্ষই নতুন নতুন এলাকা দখলের দাবি করছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের আরও ৩টি গ্রাম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইউক্রেন রাশিয়ার স্লাভিয়ানস্ক এবং ইয়ারোস্লাভেলের তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার একের পর এক তেল শোধনাগার ধ্বংস হওয়ায় দেশটিতে এখন তীব্র জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিচ্ছে, যা পুতিন প্রশাসনকে বেশ ভালোই ভাবিয়ে তুলেছে।
এরই মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, আগামী শীতের আগে তা পুরোপুরি ঠিক করা অসম্ভব। সব মিলিয়ে ইউরোপের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দিন দিন আরও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে মোড় নিচ্ছে।