Print Date & Time : 29 June 2026 Monday 7:16 pm

“আমেরিকা-ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী ব্লক”

ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবারও পরিণত হয়েছে এক উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রে! একদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর পরমাণু চালিত যুদ্ধজাহাজ, আর অন্যদিকে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের মিসাইল বোট। পরিস্থিতি এতটাই থমথমে যে, যেকোনো মুহূর্তে মাত্র একটি ভুলের কারণে জ্বলে উঠতে পারে যুদ্ধের আগুন। কিন্তু হঠাৎ কেন আবারও হরমুজ প্রণালি ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র আর মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ ইরান? কী ঘটছে সেখানে?

ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছুদিন আগের। পারস্য উপসাগর দিয়ে যাওয়ার সময় আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বেশ কয়েকটি বিদেশি তেলের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করে ইরান। আর এর জবাবে মার্কিন পেন্টাগন ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দেয়। মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিচ্ছে, যা ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। ইরানের স্পষ্ট বক্তব্য—”এই অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব কেবল আঞ্চলিক দেশগুলোর, এখানে আমেরিকার মতো বাইরের কোনো শক্তির নাক গলানো বরদাশত করা হবে না।”

ওয়াশিংটন এই সরু জলপথে মোতায়েন করেছে তাদের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং হাজার হাজার নেভি সিল (Navy Seals)। উদ্দেশ্য—ইরানকে ভয় দেখানো এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। মার্কিন বাহিনীকে কাউন্টার করতে ইরান তাদের উপকূলে মোতায়েন করেছে অত্যাধুনিক অ্যান্টি-শিপ ব্যালেস্টিক মিসাইল এবং শত শত আত্মঘাতী ড্রোন বা ‘কামিকাজে ড্রোন’। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজের ভৌগোলিক গঠন এতটাই সরু যে, এখানে আমেরিকার বিশাল যুদ্ধজাহাজগুলোর চেয়ে ইরানের ছোট ছোট দ্রুতগতির স্পিডবোট এবং ড্রোন ঝাঁক (Drone Swarm) অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এই দুই দেশের মুখোমুখি অবস্থান শুধু তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর ওপর ঝুলে আছে পুরো পৃথিবীর ভাগ্য। কেন? কারণ পৃথিবীর মোট সমুদ্রবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) পার হয় এই এক চিলতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ কোনোভাবে সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়, আর ইরান যদি এই প্রণালিতে জলজ মাইন (Naval Mines) বিছিয়ে পথটি ব্লক করে দেয়—তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ডাবল হয়ে যাবে। এর ধাক্কায় বাংলাদেশ, ভারতসহ পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে তীব্র মন্দা আর মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেবে।

আপাতত দুই পক্ষই একে অপরকে কড়া হুঁশিয়ারি দিচ্ছে এবং কেউ এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয়। তবে বিশ্বনেতারা আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত জল গড়ালেও তা হয়তো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে না, কারণ যুদ্ধ শুরু হলে ক্ষতি দুই পক্ষেরই।