Print Date & Time : 27 June 2026 Saturday 10:03 am

আতঙ্ক ও তীব্র উৎকণ্ঠা দূর করবে ১০ সেকেন্ডের ‘আইস-ওয়াটার ট্রিক’

ডেস্ক রিপোর্ট: হুট করেই বুক ধড়ফড় করা, দম আটকে আসা আর মাথায় চিন্তার ঝড় বয়ে যাওয়া—এগুলো তীব্র প্যানিক অ্যাটাক বা আকস্মিক আতঙ্কের পরিচিত কিছু লক্ষণ।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রাপ্তবয়স্কদের একটি বড় অংশই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই ধরনের তীব্র মানসিক উদ্বেগের মুখোমুখি হন। যখন মাথা পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং শরীর ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ (লড়ো নয়তো পালাও) মোডে চলে যায়, তখন নিজেকে শান্ত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মাত্র ১০ সেকেন্ডের একটি সহজ বরফ-পানির কৌশল বা ‘আইস-ওয়াটার ট্রিক’ নিমেষেই এই প্যানিক অ্যাটাকের চক্র ভেঙে দিতে পারে।

কী এই ১০ সেকেন্ডের ‘আইস-ওয়াটার ট্রিক’?

যখনই আপনি তীব্র উদ্বেগ বা প্যানিক অ্যাটাক অনুভব করবেন, তখনই সবকিছু থামিয়ে চোখে-মুখে বরফ-ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। অথবা একটি পাত্রে বরফযুক্ত ঠান্ডা পানি নিয়ে তাতে কয়েক সেকেন্ডের জন্য মুখ ডুবিয়ে রাখুন। এই আকস্মিক তাপমাত্রার পরিবর্তন আপনার শরীর ও মস্তিস্কের ভেতরের অস্থিরতা নিমেষেই স্তিমিত করে দেবে।

যেভাবে কাজ করে এই বৈজ্ঞানিক কৌশল

অনেকেই মনে করেন ঠান্ডা পানি শরীরকে আরও চমকে দেয়, কিন্তু বাস্তবে এটি শরীরকে শান্ত করতে একটি ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ হিসেবে কাজ করে। এর পেছনের মূল বিজ্ঞানটি হলো:

ম্যামালিয়ান ডাইভ রিফ্লেক্স: মুখের ত্বকে, বিশেষ করে চোখ ও নাকের চারপাশে তীব্র ঠান্ডা পানির স্পর্শ লাগলে মস্তিস্ক মনে করে শরীরটি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। একে সচল রাখতে মস্তিস্ক তাৎক্ষণিকভাবে ‘ডাইভ রিফ্লেক্স’ সক্রিয় করে।

ভেগাস নার্ভের উদ্দীপনা: ঠান্ডা পানির এই আকস্মিক ধাক্কা শরীরের প্রধান ‘ভেগাস নার্ভ’-কে উদ্দীপিত করে।

‘রেস্ট অ্যান্ড ডাইজেস্ট’ মোড: ভেগাস নার্ভ সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ক্ষতিকর ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ মোড থেকে বেরিয়ে শান্ত ও শিথিল ‘প্যারা-সিমপ্যাথেটিক’ বা ‘রেস্ট অ্যান্ড ডাইজেস্ট’ মোডে চলে আসে। ফলে হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দন দ্রুত কমে আসে এবং দ্রুত শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়।

বরফ-পানির এই কৌশলটি অত্যন্ত কার্যকর হলেও এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি:

১. অতিরিক্ত ঠান্ডা এড়ানো

পানি অত্যন্ত ঠান্ডা হতে হবে, তবে তা যেন একদম হিমাঙ্কের নিচে (ফ্রিজিং) না হয়, যাতে ত্বকে কোনো ক্ষতি বা কোল্ড ইনজুরি না ঘটে।

২. সময়সীমা

মুখ পানিতে ডুবিয়ে রাখা বা ঝাপটা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন।

৩. হৃদরোগীদের জন্য সতর্কতা

যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা গুরুতর হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে, তাদের এই কৌশলটি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। কারণ ঠান্ডা পানির আকস্মিক ধাক্কায় রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের দ্রুত পরিবর্তন তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কখন এই কৌশলটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে?

তীব্র ও আকস্মিক প্যানিক অ্যাটাক সামাল দিতে।
কর্মক্ষেত্রে কাজের প্রচণ্ড চাপে যখন মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত চিন্তা বা উদ্বেগের কারণে ঘুম না আসলে।
যেকোনো আবেগঘন পরিস্থিতিতে মানসিক নিয়ন্ত্রণ হারালে।

মনে রাখবেন, বরফ-পানির এই কৌশলটি কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নয়। এটি কেবল তাৎক্ষণিক তীব্র আতঙ্ক বা প্যানিক অ্যাটাক থামানোর একটি প্রাথমিক প্রতিবিধান। ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী এনজাইটি ডিসঅর্ডারের স্থায়ী নিরাময়ের জন্য অবশ্যই থেরাপি, সঠিক জীবনধারা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তাৎক্ষণিক শান্ত হওয়ার অন্যান্য বিকল্প উপায়

হাতের কাছে বরফ-পানি না থাকলে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে এই পদ্ধতিগুলোও দারুণ কাজ করে:

বক্স ব্রিদিং: ৪ সেকেন্ড শ্বাস নেওয়া, ৪ সেকেন্ড শ্বাস আটকে রাখা, ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়া এবং আবার ৪ সেকেন্ড বিরতি দেওয়া।

ফিজিওলজিক্যাল সাই: নাক দিয়ে পর পর দুটি দ্রুত ও গভীর শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ার মতো করে বাতাস বের করে দেওয়া।

৫-৪-৩-২-১ গ্রাউন্ডিং টেকনিক: আপনার চারপাশের ৫টি দৃশ্যমান বস্তু, ৪টি স্পর্শ করা যায় এমন জিনিস, ৩টি শব্দ, ২টি ঘ্রাণ এবং ১টি স্বাদের দিকে মনোযোগ দিন। এটি মনকে দুশ্চিন্তার জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনে।

খবর : এনডিটিভি