ইউএস বেঙ্গল বাংলাদেশ রিপোর্ট: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কবে নাগাদ রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তা নিয়ে তাদের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরণের হতাশা বিরাজ করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা সহ দলের শীর্ষ নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা করলেও বাস্তবে বাংলাদেশের মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানো এখন দুঃস্বপ্ন।
দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা সোশ্যাল মিডিয়াতে কর্মসূচি ঘোষণা করলেও বাস্তবে কোন ধরনের প্রতিফলন দেখা যায়নি। বাংলাদেশের গুটি কয়েক জায়গায় ঝটিকা মিছিল হলেও নেতাকর্মীরা মাঠে দাঁড়াতে পারেনি। এমনকি দলীয় প্রধান কার্যালয় গুলিস্তানের অফিসও হাতছাড়া হয়ে গেছে এই দলটির। এ অবস্থায় তৃণমূলের নেতা কর্মীরা সকলেই ঘর ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে আছেন, কিছু কিছু নেতাকর্মীরা এলাকাতে থাকলেও তাদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে কোন ধরনের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
এছাড়া গ্রেফতার মামলা এগুলো এখন নিত্যদিনের সাথী হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ক্ষোভ রয়েছে দলের সুবিধাভোগী শীর্ষ নেতাদের উপর। তাদের বক্তব্য দল ক্ষমতায় থাকাকালীন এই সকল সুবিধা ভুগি নেতারাই ব্যাপক দুর্নীতি করে দলকে ডুবিয়েছে, এখন দলের দুঃসময়ে তারা নিরাপদে পালিয়ে রয়েছে এবং বিলাসী জীবন যাপন করছে। ভেতর থেকে আমরা বলির পাঁঠা হচ্ছি। দলীয় কোন সুযোগ-সুবিধা না নিয়েও আজ আমরা ঘরছাড়া পালিয়ে রয়েছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলেছে ইউ এস বেঙ্গল, তাদের সকলেরই ক্ষোভ রয়েছে শীর্ষ নেতাদের প্রতি। হতাশা প্রকাশ করে তারা বলেছেন, দলে এখন ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন, আগেকার সমস্ত সুবিধাভোগী নেতাদের সরিয়ে দেওয়া উচিত। ক্লিন ইমেজের নেতাদের নেতৃত্বে সামনে আনতে হবে, দলকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ঝুঁকি নিয়ে হলেও মাঠে নামতে হবে। আর নেতাকর্মীদের মামলা চালানোর জোগান দিতে হবে দলের পক্ষ থেকে। তা না হলে দলের ঘুরে দাঁড়ানো দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে।