Print Date & Time : 29 October 2026 Thursday 8:00 am

আইন প্রয়োগ নাকি পকেট ভারী? ট্রাফিক ব্যবস্থায় অনিয়মের আড়ালে স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগ

ইউ এস বেঙ্গল বাংলাদেশ রিপোর্ট: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নাকি ব্যক্তিগত স্বার্থোদ্ধার? রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রধান শহরগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থার দিকে তাকালে এই প্রশ্নটাই আগে মাথায় আসে। শৃঙ্খলা ফেরানোর নামে যেখানে দরকার কঠোর আইন প্রয়োগ, সেখানে প্রায়শই অভিযোগ ওঠে অনিয়ম ও পকেট ভারী করার।

হেলমেট না থাকা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো কিংবা ফিটনেসবিহীন যানবাহন—সড়কে অনিয়মের অভাব নেই। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মগুলো অনেক সময় সংশোধনের সুযোগ না হয়ে দাঁড়ায় কিছু অসাধু ব্যক্তির উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে। মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিংবা স্পট ফাইন বা ‘সমঝোতা’র নামে পকেটস্থ হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

ই-প্রোসিকিউশন বা ডিজিটাল কেসের যুগেও অনিয়মের চিত্র পুরোপুরি বদলায়নি। গণপরিবহন থেকে শুরু করে অবৈধ ইজিবাইক—মাসিক বা দৈনিক চাঁদার বিনিময়ে সড়কে অবাধে চলার অভিযোগ অহরহ। ফলে একদিকে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

অবশ্যই সব দায় একপক্ষের নয়। সাধারণ চালক ও পথচারীদের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতাও সমানভাবে দায়ী। তবে যারা আইন রক্ষার দায়িত্বে, তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া সড়কের শৃঙ্খলার কথা চিন্তা করা অসম্ভব। ই-পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা, নজরদারি বাড়ানো এবং অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া এই অনিয়ম থামানো সম্ভব নয়।

আইন হোক সবার জন্য সমান, কোনো ব্যক্তিবিশেষের পকেট ভারী করার হাতিয়ার নয়। ট্রাফিক ব্যবস্থায় কি সততা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, নাকি অনিয়মের এই মহোৎসব চলতেই থাকবে? প্রশ্ন থেকেই যায়।